আবার একটা আগস্ট মাস চলে এলো। এই আগস্ট মাসেই আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল তিলোত্তমাকে। আরজি কর হাসপাতালের সেই ভয়াবহ ঘটনা এখনও হৃদয়ে ব্যথার মতো গেঁথে আছে বিধায়ক রত্না দেবনাথের। সময় অনেকটা চলে গেলেও মেয়েকে হারানোর ব্যথা আজও তাঁর মনে থেকে ফিকে হয়ে যায়নি। বরং প্রতিনিয়ত তাঁকে কষ্ট দেয় ঘটনার কথা মনে পড়লে। এখনও মেয়ের বিচারের আশায় আছে পরিবার। মাঝে কেটে গিয়েছে দু’টো বছর। এখন তিনি বিজেপির বিধায়ক। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। রাজ্যে বিজেপির সরকার এবং তিনি বিধায়ক হলেও আগস্ট মাস এসে যেতেই মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে রত্নাদেবীর। তাই তো আগামী সাতদিন যোগাযোগ থেকে বিরত থাকছেন বলে জানালেন পানিহাটির বিধায়ক।
রবিবার সমাজমাধ্যমে সেই কথা পোস্ট করেছেন রত্না দেবনাথ। সুতরাং আগামী সাতদিন তিনি কারও সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করবেন না। এই সাতদিন নিজের দুঃখ বুকে চেপে রেখে বাড়িতে থাকবেন বলেই খবর। দু’বছরের আগের ৮ আগস্টের রাত। যেদিন ভয়ঙ্কর নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল আরজি কর হাসপাতালে। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। যা নিয়ে গোটা রাজ্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। রাজপথে নেমে এসেছিল আন্দোলন। তিলোত্তমার ঘটনায় বিচার চাইতে উঠেছিল স্লোগান-উই ওয়ান্ট জাস্টিস। তখন তাঁর মাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমরা যখন ঘুমোচ্ছিলাম, মেয়েটা তখন কতটা কষ্ট পেয়েছে।’ তাই এই আগস্ট মাসের প্রথম সাতদিন নিজেকে গৃহবন্দি করে রাখতে চাইছেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
এই ঘটনার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কলকাতা পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসল অপরাধীকে ধরে ফেলে। এখন সে জেলে। সঞ্জয় রাইয়ের বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ পেশ করে কলকাতা পুলিশ। তার পাঁচ মাস বাদে সিবিআইও তদন্ত করে জানিয়ে দেয়, আসল অপরাধী সঞ্জয় রাই। কিন্তু মায়ের মন তা মানতে পারেনি। অনেক প্রশ্ন ছিল তাঁর মনে। তাই বিজেপির হাত ধরে এখন তিনি বিধায়ক। খুলেছে আবার আরজি কর ফাইলস। তদন্ত করছে সেই সিবিআই। বিচারের আসায় অপেক্ষা করছেন রত্না দেবনাথ।
কিন্তু আবার যে আগস্ট মাস চলে এসেছে। এখন কোন পদক্ষেপ করবেন পানিহাটির বিধায়ক? এখন তিনি নিঃসঙ্গতায় থাকতে চাইছেন। আর তাই তো সমাজমাধ্যমে রত্না দেবনাথ লিখলেন, ‘আমি আপনাদের থেকে সাতদিন আমার ব্যক্তিগত কারণে চেয়ে নিচ্ছি। আগামী সাতদিন আমি ফোনে বা সরাসরি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব না। কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত না থাকার আর্জি জানাচ্ছি। আমার জনতার কার্যালয়ে অফিসিয়াল কাজ যেমন চলার চলবে। আপনারা প্রয়োজনে যোগাযোগ করে নেবেন। আমার এই কদিনের অনুপস্থিতি আপনারা আন্তরিকভাবে মার্জনা করবেন আশা রাখি।’




