• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 29 June, 2026

বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে হুমায়ুন কবীরকে ‘হায় হায়’ স্লোগান, কুকথার জের

একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নামিয়ে হামলার কথা বলে রাজ্য-রাজনীতিতে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি করেন হুমায়ুন

বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে হুমায়ুন কবীরকে ‘হায় হায়’ স্লোগান, কুকথার জের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিধানসভায় জিরো আওয়ারের কাজ শুরুর আগে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক এবং আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগ তোলা হয়। সোমবার বিধানসভায় জোড়া সংশোধনী বিল পেশ নিয়ে চলে আলোচনা। তার আগে হুমায়ুন কবীরের কুকথা নিয়ে সরব হন বিজেপি বিধায়করা। হুমায়ুন কবীর কদিন আগেই সভা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কুকথা বলেছেন। এমনকী হিংসায় উস্কানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেন। এদিন সেই মন্তব্যের জেরেই তেতে উঠল রাজ্য বিধানসভা।

এদিকে বিধানসভা অধিবেশন শুরুর পরই নাগরাকাটার বিজেপি বিধায়ক পুনা ভেঙরা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঠিক তারপরে নারায়ণগড়ের বিজেপি বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি ‘হুমায়ুন হায় হায়’ স্লোগান লেখা পোস্টার নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। সেটা দেখে বাকি বিধায়করা হুমায়ুন কবীরের উদ্দেশে ‘হায় হায়’ স্লোগান দিতে থাকেন। আর তাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বিধানসভা। একইসঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিজেপি বিধায়করা।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে কুকথা এবং হিংসায় উস্কানির বিষয়টি মন দিয়ে শোনেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস। তবে তিনি কোনও মন্তব্য করার আগেই আসরে নামেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। আর পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, ‘হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী অবগত। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিবৃতি দেবেন পরে।’ একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নামিয়ে হামলার কথা বলে রাজ্য-রাজনীতিতে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি করেন হুমায়ুন।

তাছাড়া রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ুন কবীর যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা নিয়ে এদিন বিধানসভায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়ক-মন্ত্রীরা। ঠিক কী বলেছিলেন হুমায়ুন? রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ুন কবীর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে যেদিন নেমে যাব, এমন স্যাটাভাঙা মার দেব, আপনাদের পতাকা বয়ে নিয়ে যাওয়ার লোক থাকবে না। তারপর কেস দেবে? ওরকম কেস আমাদের অনেক আছে। জেল খাটা আছে। কতজনকে জেলে ঢোকাবেন? বহরমপুরে জেলে ৪৭ সংখ্যার বেশি লোক রাখা যায় না। আর কদিন জেলে রাখতে পারেন, কত খাওয়াতে পারেন আমিও দেখব।’ যা নিয়ে এদিন বিধানসভা তেতে ওঠে। বিধানসভায় ওবিসি আইন সংশোধনে ও ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিল পেশ করলেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। সেই বিলের উপরেই চলে আলোচনা। তার আগে হুমায়ুনকে নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে হুমায়ুন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দুটো বক্তব্য নিয়ে এফআইআর হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সব ধারা দিয়েছি। আমি একসপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। দেখব কী করে। দেশে সংবিধান, আইনই শেষ কথা বলে। কোনও বাপের বেটা বলে না। আপনি এইসব হুঁশিয়ারি বন্ধ করুন। যারা ওই সভায় আপনাকে ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব। তারপর আপনার কাছে যাব। আর এটাই আপনার শেষ বক্তব্য। এভাবে আপনাকে বেপরোয়া মন্তব্য আর করতে দেব না, দেব না, দেব না। এনাফ ইজ এনাফ। এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে সেসময় যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। এখন এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।’