ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর উচ্ছ্বসিত আইরিশ শিবির। উচ্ছ্বাস বেশি ভারতীয় মিডিয়াম পেসার জয় মুন্দ্রাকে নিয়ে। কাঁটা দিয়ে কী ভাবে কাঁটা তুলতে হয়, তা দেখিয়ে দিল আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল।
ভারতের এই সিরিজ হারের উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিডিয়াম পেসারের বোলিংয়ের কাছেই বশ্যতা স্বীকার করেন ভারতীয় ব্যাটাররা। তিনিই জয় মুন্দ্রা। রাজস্থানের টঙ্ক থেকে ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.টেক করতে এসে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া মূন্দ্রার কাছে এখন জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমই যেন সেকেন্ড হোম।
২০২১-এ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনে মাস্টার্স করতে আয়ারল্যান্ডে পাড়ি দেন জয় মূন্দ্রা। আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই যে দেশে তাঁর জন্ম, সেই ভারতের বিরুদ্ধেই আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর।
আইরিশ লিগে খেলেন লেইনস্টার ক্লাবের হয়ে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুন্দ্রা ক্রিকেট শুরু করেছিলেন একজন ব্যাটার হিসেবে, যিনি বাঁ হাতে স্পিনও করতেন। পরে মিডিয়াম পেস শুরু করেন। রবিবার চার ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন মুন্দ্রা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাত্র চার বলের মধ্যেই ফিরিয়ে দেন দুই ভারতীয় ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের স্টাম্পও উড়িয়ে দেন তিনিই।
প্রথম ম্যাচেও সঞ্জুর স্টাম্প ছিটকে দিয়েছিলেন তিনি। নিজের বোলিংয়েই শিবম দুবের ক্যাচও নিয়েছিলেন। দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরার খেতাব পাওয়ার পর এই ভারতীয় বোলার বলেন, “এখনও যেন সবকিছু ঠিকমতো উপলব্ধি করতে পারছি না।”
এর পর তিনি বলেন, “অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে যেভাবে সমর্থন করেছে, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ওদেরই প্রাপ্য। প্রত্যেক ক্রিকেটারের জীবনেই উত্থান-পতন থাকে। সেই সময়ে ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হয় এবং নিজের কাজ করে যেতে হয়। দলের সবাই আমাকে এমন অনুভব করিয়েছে, যেন আমি ওদেরই একজন। এখানে পরিবেশটা দারুণ, মানুষগুলোও অসাধারণ। এখনও মনের মধ্যে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
বিশেষ কী করেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে মূন্দ্রা বলেন, ‘আমি শুধু মূল বিষয়গুলোতেই মন দিয়েছি এবং প্রক্রিয়া মেনে বোলিং করেছি। সেটাই আমার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।’
তাদের অধিনায়ক লরক্যান টাকার বলেন, ‘আমি এখনও ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি ছেলেদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, যাতে তারা গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দেয় যে আগের জয়টা কোনও কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। আর ওরা সেই চ্যালেঞ্জের দারুণ জবাব দিয়েছে। আগের ম্যাচের মতোই একই মানসিকতা এবং আগ্রাসন নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছিলাম। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, ক্রিকেট খুবই সহজ একটি খেলা— একে অযথা জটিল করে তোলার কোনও দরকার নেই।’
সিরিজ শুরুর আগে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটের কারণে ছিটকে গেলেও দলের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি টাকার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে এমন অনেক ছেলে রয়েছে, যাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম। কিন্তু ওরা অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে এই ধরনের সিরিজ খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের জন্য সত্যিই বড় সৌভাগ্যের। আয়ারল্যান্ডে এই মুহূর্তে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার এটাই সম্ভবত সেরা সময়।’




