• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

নকআউটে ব্রাজিলের সাম্বা জাদুর সামনে জাপানী সামুরাইয়ের কঠিন লড়াই

হিউস্টন স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান।

নকআউটে ব্রাজিলের সাম্বা জাদুর সামনে জাপানী সামুরাইয়ের কঠিন লড়াই

আজ সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকতে চলেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। হিউস্টন স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। গ্রুপপর্বে দুরন্ত ছন্দে ছিল দুই দলই। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে গ্রুপ সি-র শীর্ষে থেকেই নক আউটের ছাড়পত্র আদায় করেছে ব্রাজিল। শেষ ষোলোয় যাওয়ার লড়াইয়ে খাতায় কলমে তাই কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে সেলেকাওরা।

জাপানের বিরুদ্ধে নকআউটে নামার আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির প্রধান ভরসা অবশ্যই ভিনিসিয়াস জুনিয়র। দু’ম্যাচে চারটি গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ এই তারকা।পাশাপাশি, ভরসা জোগাচ্ছেন স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহাও। ব্রাজিলের জার্সিতে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেই জোড়া গোল করেছেন তিনি। এমনকি, শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও গোল করানোর পাশাপাশি নিজেও একটি গোল করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই খেলোয়াড়। কুনহাকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোয় অনেকটাই সুবিধা পেয়েছেন ভিনিসিয়াস। যার ফলও ব্রাজিলের খেলায় বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে।

তবে, নক আউটে জাপানের বিরুদ্ধেও নামার আগে সেলেকাওদের জন্য স্বস্তি খবর অবশ্যই চোট সারিয়ে রাফিনহার ফিট হয়ে ওঠা। ব্লু সামুরাইদের বিরুদ্ধে সম্ভবত প্রথম একাদশে ফিরতে পারেন তিনি। যদিও, এই ম্যাচেও হয়তো প্রথম একাদশে দেখা যাবে না নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়রকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষের দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামতে পারেন তিনি। আসলে, চোট কাটিয়ে উঠলেও এখনও পুরোপুরি ফিট নন নেইমার।

এইদিকে, পিছিয়ে নেই জাপানও। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্রাজিলকে সমীহ করলেও ম্যাচ জয়ের বিষয়ে বিশেষ আশাবাদী ব্লু সামুরাই’রা। সেলেকাওদের বিরুদ্ধে নামার আগে জাপানকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে গ্রুপ পর্বের ফলাফল। গ্রুপ এফের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে দু’বার পিছিয়ে পড়েও ২-২ ড্র করেছে তারা। এরপর টিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন দাইচি কামাদা ও আয়াসে উয়েদারা। শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে গ্রুপ এফ-এর রানার্স দল হিসেবে নকআউটে পৌঁছেছে উদীয়মান সূর্যের এই দেশ। বিশ্বকাপের মঞ্চে জাপানের প্রধান শক্তি অবশ্যই দ্রুত প্রতি আক্রমণ। যা নজর এড়ায়নি ব্রাজিল শিবিরের। বিষয়টি নিয়ে ম্যাচের আগে দলের অন্যতম ফুটবলার রায়ান বলেন, এবারের বিশ্বকাপে জাপান অন্যতম শক্তিশালী দল। ফলে, এই ম্যাচ জিততে গেলে ব্রাজিলকে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলেই মনে করছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বলা যায়, এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছিল মাত্র একবার। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের সেই ম্যাচের ৩৪ মিনিট নাগাদ প্রথম গোল করে জাপান এগিয়ে গেলেও রোনাল্ডোর জোড়া গোলের সৌজন্যে ৪-১ গোলে সহজেই ম্যাচ জেতে ব্রাজিল । সেই ম্যাচেই গার্ড মুলারের ১৪ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন রোনাল্ডো। তবে, গত বছরের অক্টোবরে টোকিওতে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। সেই জয়কেই নকআউটের ম্যাচে অনুপ্রেরণা করে নামতে চান মোরিয়াসু।

যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচে নিঃসন্দেহে ফেবারিট ব্রাজিল। তবে, জাপানকেও হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। চলতি বিশ্বকাপ কিন্তু তথাকথিত পিছিয়ে পড়া ছোট্ট দেশগুলোর রূপকথার উত্থান দেখেছে। তাই, রাউন্ড অফ ৩২ এর ম্যাচে যদি আমেরিকার মাটিতে ফের একবার জাপানি সূর্য উদয় হয়, তাহলে কিন্তু অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।