• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 26 June, 2026

বাদ পড়ছে সংবিধানের প্রস্তাবনা, এনসিইআরটি-র সমাজবিজ্ঞান বইয়ে থাকবে না ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জরুরি অবস্থার সময়কার ঘটনাবলি তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে তারা সেই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হতে পারে

বাদ পড়ছে সংবিধানের প্রস্তাবনা, এনসিইআরটি-র সমাজবিজ্ঞান বইয়ে থাকবে না ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ

এনসিইআরটির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবই ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বই থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ‘সার্বভৌম’, ‘সমাজতান্ত্রিক’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানকি শব্দগুলির ব্যাখ্যা আর থাকছে না। এর পরিবর্তে জরুরি অবস্থার (ইমার্জেন্সি) উপর একটি পৃথক অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।

আগের নবম শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইয়ে সংবিধানের প্রস্তবনাকে দেশের সাংবিধানিক দর্শনের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের কোনও নিজস্ব ধর্ম নেই এবং সব ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়। কিন্তু নতুন ২২০ পাতার সমাজবিজ্ঞান বইয়ে সেই অংশ আর রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে নতুন বইয়ে সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস, গণপরিষদের ভূমিকা এবং সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এতে সংবিধানকে একটি শক্তিশালী, নমনীয়, পরিবর্তনশীল ও সময়োপযোগী নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচার এবং ধর্ম পালনের অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এছাড়া বইয়ে জরুরি আবস্থার ইতিহাস নিয়ে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত অধ্যায়েও সংশোধন করে নির্বাচন পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জরুরি অবস্থার সময়কার ঘটনাবলি তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে তারা সেই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইতিহাস, সাহিত্য ও পাঠ্যবইকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিবর্তনের বদলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পৃথক বইয়ের পরিবর্তে নবম শ্রেণিতে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ নামে একটি সমন্বিত সমাজবিজ্ঞান বই পড়ানো হবে।