স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিল জায়গা নিশ্চিত করলেও ম্যাচের ফল নিয়ে যতটা না আলোচন ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা শোনা যায় দুই তারকা—দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফেরা নেইমার এবং দুরন্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে নিয়ে।
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকেও ঘুরে ফিরে আসে এই দুই তারকার প্রসঙ্গ।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনসেলোত্তি নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে বলেন, ‘ও খেলার সুযোগ পেয়েছে কারণ ও এর যোগ্য ছিল। চোট থেকে ফিরে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে নেইমার। আমি মনে করি, ওর যে গুণ ও দক্ষতা রয়েছে, তা দিয়ে ও এই বিশ্বকাপে দলকে সাহায্য করতে পারবে। ও মাত্র কয়েক মিনিট খেলেছে, কিন্তু সেই সময়টাতেও ভালো খেলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেইমারকে খেলতে নামার জন্য আলাদা করে অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন নেই। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপানোর জন্য কোনও খেলোয়াড়েরই বাড়তি প্রেরণার দরকার হয় না। ওর বয়স এখন ৩৪, কিন্তু এখনও ওর মধ্যে একজন তরুণ ফুটবলারের মতোই আবেগ, উদ্দীপনা এবং খেলার প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।’
প্রায় ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন নেইমার। ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময় গ্যালারিভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। ম্যাচ শেষে আবেগও লুকোতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।তবে এই মুহূর্তে ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা যে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স নিয়ে আনসেলোত্তি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভিনি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে এবং দলও তাকে অনেক সাহায্য করছে। ও বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারে—মাঝখানে যেমন, তেমনই উইংয়েও সমান কার্যকর। ভিনিসিয়াসকে এভাবে খেলতে দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। সে যে এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তা নিয়ে আমার কখনও কোনও সন্দেহ ছিল না। ভিনিকে আমি আবিষ্কার করিনি, সে নিজেই একজন বিশ্বমানের ফুটবলার। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন সে।’
স্কটল্যান্ড ম্যাচে গোল করে ভিনিসিয়াস এমন এক কীর্তি গড়েন, যা এর আগে জরজিনহো, রোমারিও, রোনাল্ডো এবং রিভাল্ডোর মতো কিংবদন্তিরা করতে পেরেছিলেন। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের চারজনের ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল।এ বারেও ব্রাজিল সেই দিকেই এগোচ্ছে।
আর দলের এই পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ বলেন, আনচেলত্তি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন আমরা সত্যিকারের একটা দল হিসেবে খেলছি, আর সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমরা নিখুঁত নই, এখনও কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে। বল দখলে থাকাকালীন আমাদের আরও দ্রুত খেলতে হবে।আমি খুশি, কারণ প্রথম ম্যাচের পর থেকে দল অনেক উন্নতি করেছে। নকআউট পর্বে পৌঁছে যাওয়ার পর রক্ষণে দৃঢ় থাকা এবং সংগঠিতভাবে খেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”নক আউটে পা রাখার পর এ বার দলের লক্ষ্য কী? এই প্রশ্নের উত্তরে আনসেলোত্তি বলেন, “আমরা কতদূর যেতে পারব, সে সম্পর্কে আমি কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করিনি। লক্ষ্য শুধু ভালো খেলা নয়, লক্ষ্য হলো, জয়ী হওয়া। একজন কোচকে বিচার করা হয় জয় বা পরাজয়ের ভিত্তিতে, দল ভালো খেলল নাকি খারাপ খেলল তার ভিত্তিতে নয়।’
ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উচ্ছ্বাস সম্পর্কে তাদের কী বার্তা দিতে চান জানতে চাওয়া হলে আনসেলোত্তি হাসিমুখে সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, ‘সবাই শান্ত থাকুন।’এখন নকআউট পর্বে ব্রাজিলের হাতে রয়েছে একদিকে অভিজ্ঞ নেইমার, অন্যদিকে দুরন্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিয়াস। ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) জয়ের স্বপ্নে এই জুগলবন্দিই হতে পারে সেলিসাওদের সবচেয়ে বড় শক্তি।




