রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিল। একদিকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কৃষ্ণ সাগর ও ক্রিমিয়া ঘিরে তীব্র আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠছে।
সোমবার ভোর থেকে মস্কোতে কয়েক ডজন ড্রোন আসে বলে দাবি করেছে রুশ প্রশাসন। তাদের বক্তব্য, প্রায় ৬০টি ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলার জেরে মস্কোর প্রধান চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়। শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। গত সপ্তাহেও মস্কোর একটি তেলশোধনাগারকে লক্ষ্য করে বড় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। যেখানে রাশিয়া দাবি করেছিল প্রায় ২০০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মস্কোর উপকণ্ঠে একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলার দাবি করা হয়েছে। সেখানে বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে শুধু আকাশপথেই নয়, সমুদ্রপথেও সংঘাত ছড়িয়েছে। কৃষ্ণ সাগরে বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন মিশরীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে কিয়েভ জানিয়েছে। একটি তুরস্কের জাহাজে আগুন লেগে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনার পর ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ক্রিমিয়া ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে ক্রিমিয়াজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাল্টা হামলায় ইউক্রেনে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। রাতভর বহু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, তাদের হামলা রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ।




