কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ৫৬তম জন্মদিনের উদযাপন এবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। শুক্রবার বারাণসীতে কংগ্রেস কর্মীরা রাহুল গান্ধীর জন্মদিনে ভগবান পরশুরাম রূপে তাঁর ছবি চিত্রিত করে প্রতীকীভাবে দুধ দিয়ে স্নান করানোর পর থেকেই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মকে অসম্মান করা এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের জন্য ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। বিরোধী দলের নেতার জন্মদিন উপলক্ষে যুব কংগ্রেস কর্মীরা এই পুজোর আয়োজন করেছিলেন।
সেখানে এক হাতে কুঠার ও অন্য হাতে সংবিধানের একটি প্রতিলিপি ধরা ভগবান পরশুরামের বেশে রাহুলের একটি ছবি প্রদর্শন করার পর গঙ্গা নদীতে সেই প্রতিকৃতিকে দুধস্নান, ফুলবর্ষণ ও পুজো ও মন্ত্রোচ্চারণ করা হয়। এরপর ১১ কেজির লাড্ডু কেটে জন্মদিন পালন করা হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেছেন, রাহুল গান্ধীকে ভগবান পরশুরামের সঙ্গে তুলনা করা হিন্দু বিশ্বাসের প্রতি অপমান। এক্সে একটি পোস্টে মালব্য বলেছেন, ‘কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে ভগবান পরশুরামের সঙ্গে তুলনা করাটা শুধু অযৌক্তিকই নয়, এটি হিন্দু ধর্ম ও ঐতিহ্যের প্রতি অপমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভগবান পরশুরাম ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার এবং সাহস, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও ধর্মের প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। তাঁকে এমন একজন রাজনীতিবিদের সঙ্গে তুলনা করা, যিনি নির্বাচনে ব্যর্থ, রাজনৈতিক জীবন সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় ভরা, তা লক্ষ লক্ষ হিন্দুর জন্য একটি অপমান।’ কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে মালব্যর প্রশ্ন, ‘অন্যান্য ধর্মের পূজনীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়েও কি কংগ্রেস এমন তুলনা করার সাহস দেখাবে?’ বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারীও এই উদ্যোগকে উপহাস করেছেন। তাঁর মতে, দল ও তার সহযোগীদের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কংগ্রেস কর্মীরা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর স্বপ্ন দেখছে।
এক্সে একটি ভিডিও পোস্টে তিনি বলেন, ‘তারা দেখিয়েছে যে ৩৬৫ দিনের মধ্যে কংগ্রেস হিন্দুদের কথা মাত্র একদিন মনে রাখবে, আর বাকি ৩৬৪ দিন তোষণের রাজনীতি করবে।’ বিজেপির আরেক মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা হিন্দু ধর্মকে অপমানের অভিযোগ করেছেন ।বিজেপির সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার বলেছেন যে, যদিও কিছু সমর্থক রাহুল গান্ধীকে বিআর আম্বেদকর, বিরসা মুন্ডা এবং ভগবান পরশুরামের মতো ব্যক্তিত্ব রূপে চিত্রিত করছেন, তিনি মনে করেন যে বিরোধী দলের নেতাকে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমি হলে বলতাম রাহুল গান্ধীকে রাহুল গান্ধীই থাকতে দিন, কারণ তাঁর নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয়, ক্ষমতা এবং সংগ্রাম রয়েছে।’ বিজেপির আপত্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর জিজ্ঞাস্য, ‘ভগবান পরশুরাম বা ভগবান রামের উপর কি বিজেপির কোনো পেটেন্ট আছে ?’ ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। রাহুল গান্ধীর জন্মদিনের উদযাপন এখন রাজনীতির নতুন বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




