ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করে ফেলল তারা। সিয়াটলে গ্রুপ ‘ডি’-র ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় মরিসিও পোচেত্তিনোর দল। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠা নিশ্চিত করে ফেলে তারা।
খেলার ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাঁদিক দিয়ে ফোলারিন বালোগানের বিপজ্জনক ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস। আত্মঘাতী গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মার্কিনরা।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। সার্জিনো ডেস্টের শট বিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ছিটকে আসার পর হেড করে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমে অফসাইডের জন্য গোল বাতিল হলেও ভিএআর-এ পরীক্ষা করার পর শেষ পর্যন্ত গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।
এই জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিশেষ কীর্তিও গড়ে ফেলল। বিশ্বকাপে টানা দুটি ম্যাচে জয়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হল ৯৬ বছর। ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম দুটি ম্যাচে জিতল মার্কিনরা।
এ দিন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চোটের কারণে দলের সবচেয়ে বড় তারকা অনুপস্থিত থাকলেও তার অভাব অনুভব করতে দেয়নি পোচেত্তিনোর দলের ছেলেরা। ওয়েস্টন ম্যাককেনি, বালোগান ও রিকার্ডো পেপিরা আক্রমণে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কোচ টনি পপোভিচ একাধিক পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়ান। নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটক্যালফ মাঠে নেমে খেলায় কিছুটা প্রাণ ফেরালেও মার্কিন রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি সকারুজরা। শেষ পর্যন্ত কোনো গোল না পেয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ডি’-র শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে হারানো অস্ট্রেলিয়া এক জয় ও এক হারে তিন পয়েন্ট নিয়ে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে জয় পেলেই নকআউটে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারবে তারা।




