ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত কয়েক দিন ধরে তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে খবর। গ্রেপ্তার হয়েছেন সাংসদ অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির ওরফে ‘পুষ্পা’। স্বামীকে থানার হেফাজত থেকে মুক্ত করতে যে বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি হয়েছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রেজিনা।
শনিবার সকালে ফলতা থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গির খানকে থানার বাইরে বের করে আনার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। ঘটনার আগেন দিন রেজিনার নেতৃত্বে একটি বৈঠকে সমর্থকদের জড়ো করে থানায় হামলা করা
বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির খান। ভোটের আগে নিজেকে পুষ্পা বলে উল্লেখ করেন। আর যে কোনও পরিস্থিতিতেই মাতা নত করবেন না বলে জানান। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়। পরে জাহাঙ্গির প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। গেরুয়া শিবির বিপুল ব্যবধানে ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়। জাহাঙ্গির চুতুর্থ স্থান পায়।
বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গিরকে দীর্ঘ তল্লাশির পর নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার পর তাঁকে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় কোমরে দড়ি বেঁধে ও হাফপ্যান্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রেজিনার নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচিও নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরকে মুক্ত করা উদ্দেশে থানায় হামলার ছক কষা হয়েছিল। এই ঘটানায় ইতিমধ্যেই ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেজিনার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হল।
এদিকে, গত বুধবার ফলতায় এক জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, কোনও ধরনের গুন্ডামি বা হিংসাত্মক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।




