• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 6 August, 2026

‘গত ৫০ বছরে শিল্পে পিছিয়ে পড়েছে বাংলা’, বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

শিল্পের প্রসার যে ঘটবে সে কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে একাধিক শিল্প আসছে বলেও জানিয়ে দেন তিনি

‘গত ৫০ বছরে শিল্পে পিছিয়ে পড়েছে বাংলা’, বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

মিলন মেলায় বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে হাজির হয়ে বিস্তর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে পরিস্থিতি যে বদলেছে সেটাও তুলে ধরেন তিনি। এমনকী আগামী দিনে শিল্পের প্রসার পশ্চিমবঙ্গে ঘটবে সেই দাবিও করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন ঘটাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বলেছেন বলেও ভরা সভায় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার মিলন মেলা প্রাঙ্গনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা ববলেন। আর বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে ফিতে কেটে উদ্বোধন করেন। শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু অধিকারী তুলে ধরেন একের পর এক তথ্য।

এদিকে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই যে তাঁর সরকারের লক্ষ্য এদিন ভরা সভা থেকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানে যে কোনও গুন্ডাগিরি চলবে না সে কথাও বুঝিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি আইনের শাসন তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে সে দাবিও করেন তিনি। তাই তো মুখ্যমন্ত্রী শিল্প সম্মেলন থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘গত ৫০ বছরে শিল্পে পিছিয়ে পড়েছে বাংলা। তবে রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। এবার রাজ্যে শিল্প ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হবে। সরকারে আসার তিন মাসের মধ্যে আমরা অনেক কাজ করেছি। আমরা সংকল্পপত্র মেনে কাজ করার চেষ্টা করছি। এখানে কোনো গুণ্ডাগিরি চলবে না। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

অন্যদিকে শিল্পের প্রসার যে ঘটবে সে কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে একাধিক শিল্প আসছে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমি প্রত্যেকদিন ভূমি পূজন করছি। লাক্স কোজি, এখানে আমূল এসেছে। মিষ্টি দই আর আইস ক্রিম করবে। নির্মলা সীতারামন আমাকে বলেছেন, চা-বাগান আর বস্ত্র ব্যবসা নিয়ে উনি বিশেষভাবে ভাবছেন। বাংলার টেক্সটাইল নিয়ে নির্মলা সীতারামণ ভাবছেন। এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট নির্মলা সীতারামণ আসছেন বাংলায়। টেক্সটাইল হাবের জন্য যদি আইন পরিবর্তন করতে হয় আমি করব। আপনাদের যা দরকার তাই করব। কমপক্ষে ৫০০ থেকে ১০০০ কোটির ব্যবসা হবে এখানে।’

তাছাড়া রাজ্যে এখন কেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটাও সকলের সামনে বাতলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। তাই এখানের প্রভূত উন্নতি ঘটবে বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘সব অপরাধ তোলাবাজি, কাটমানি, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে আবহাওয়া বদল হচ্ছে আপনারা টের পাচ্ছেন। গুন্ডামি করতে দেব না। তোলা অসুলি হবে না। কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে পাচ্ছেন? ওঁরা জানালেন অনলাইনে। এখন কোনও অসুবিধা হয় না। কেউ কেউ পার্কিং নিয়ে একটু অভিযোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক চেষ্টা করছে বাংলার হাল ফেরাতে। উনি যোগা ডে পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রীদের বলেছেন, তাড়াতাড়ি বাংলায় যাও। বাংলাকে উন্নত করো। সেই কাজ শুরু হয়েছে। বাংলায় কর্মসংস্থানের অভাব আছে। কিন্তু এখানে মানুষ রয়েছেন। আমি বাংলার জন্য গর্বিত। এই শহরকে সিটি অফ জয় বলে। এটা সংস্কৃতি কেন্দ্র। আগের মুখ্যমন্ত্রী সুরাটের নাম শুনলেই বলত বহিরাগত। কলকাতার লাভ হবে, তেমন গুজরাতেরও। এই জন্যই তো শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাদের বাঁচিয়েছে। নয়তো বাংলাদেশের মতো অবস্থা আমাদের হতো।’