• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 20 June, 2026

ভিনিসিয়াস-কুনহার দাপটে হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ব্রাজিল

প্রথম গোলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ২৩ মিনিট। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বল জালে জড়ান মাতেউস কুনহা

হাইতিকে ৩-০-য় হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নিল ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করার পর কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে কার্লো আনসেলোত্তির দল। ফিলাডেলফিয়ায় গ্রুপ ‘সি’-র গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে এই জয়ের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াল তারা।

এ দিন ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল বজায় রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ শানাতে থাকে ব্রাজিল। প্রথম গোলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ২৩ মিনিট। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বল জালে জড়ান মাতেউস কুনহা।

৩৬ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। ভিনিসিয়াসের সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে গোলের খাতা খোলেন ভিনিসিয়াস নিজেই। লুকাস পাকেতার পাস থেকে হাইতির গোলরক্ষক জোহনি প্লাসিদের পায়ের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের আক্রমণের ঝাঁঝ কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে, হাইতিও লড়াই চালিয়ে যায়। তবে ব্রাজিলের সুসংগঠিত ডিফেন্সে চিড় ধরাতে পারেনি তারা। ম্যাচের শেষ দিকে আনসেলোত্তি একাধিক পরিবর্তন করে এন্ড্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিদের মাঠে নামান।

এই ম্যাচের সেরা অবশ্যই ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনটি গোলেই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল তাঁর—প্রথম গোলের সূচনা, দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট এবং তৃতীয় গোলটি নিজে করা। অন্যদিকে সুযোগ পেয়ে জোড়া গোল করে তাঁর প্রতি কোচের আস্থার জবাব দেন মাতেউস কুনহা।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে নক-আউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল ব্রাজিল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল হাইতি। নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের ফলের ওপরই নির্ভর করবে তারা নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে কি না। এ দিন এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কো স্কটল্যান্ডকে ১-০-য় হারায়। সাইবারির নজির গড়া গোলেই স্কটল্যান্ডকে হারায় মরক্কো। ফলে নকআউটের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল আফ্রিকান দলটি।

শুক্রবার ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় জালে বল জড়িয়ে দেন সাইবারি। ব্রাহিম দিয়াজের তৈরি করা আক্রমণ থেকে তাঁর নিখুঁত ফিনিশই এই বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হয়ে রইল। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মরক্কোরও দ্রুততম গোল।প্রথম গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মরক্কো। মাঝমাঠে দাপট দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি তারা।

প্রথমার্ধে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্কটল্যান্ড। বদলি খেলোয়াড়দের নামানোর পর আক্রমণে কিছুটা ধার বাড়ে স্টিভ ক্লার্কের দলের। স্কট ম্যাকটোমিনেকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য পেনাল্টির দাবি উঠলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্কটিশ সমর্থকরা। ম্যাচের শেষ দিকে স্কটল্যান্ড মরিয়া চেষ্টা চালালেও মরক্কোর রক্ষণভাগ কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মরক্কো।

দুই দলের জয়ের ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-র প্রথম দুটি স্থানে উঠে এল ব্রাজিল ও মরক্কো। তবে গোলপার্থক্যের বিচারে ব্রাজিল তাদের চেয়ে এগিয়েই রয়েছে। ব্রাজিল যেখানে চারটি গোল দিয়ে একটি গোল খেয়েছে, সেখানে মরক্কো দুটি গোল দিয়ে একটি গোল খেয়েছে। প্রথম ম্যাচে হাইতিকে হারানো স্কটল্যান্ড তিন পয়েন্টে রয়েছে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হাইতি, আর স্কটল্যান্ডকে খেলতে হবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। এই দুই ম্যাচের ওপরই নির্ভর করবে এই গ্রুপ থেকে কারা যাবে ৩২ দলের নক-আউট পর্বে।