• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

‘একটু ভেবে দেখুন, বিবি আপনি সেরাটাই পেয়েছেন’, ইরান চুক্তি নিয়ে নেতানিয়াহুকে বার্তা ট্রাম্পের

চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আশার আবহ তৈরি হলেও বিতর্ক এখনই থামছে না।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি ইজরায়েলের জন্য বড় সাফল্য বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। ট্রাম্পের কথায়, ‘ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা ইজরায়েলের কাছে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল। সেই ঝুঁকি এই চুক্তির মাধ্যমে অনেকটাই দূর হয়েছে।‘ নেতানিয়াহুর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি পেয়েছেন।‘ ট্রাম্পের দাবি, এই সমঝোতায় ইজরায়েল খুশি এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক হুমকির আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরান একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় ইরান তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাবে। পাশাপাশি তেহরানের উপরে থাকা কিছু মার্কিন-সমর্থিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পথও খোলার কথা রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন ইজরায়েল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি পাচ্ছে। ট্রাম্পের কথায়, ‘বিষয়টি খুবই সহজ। আমি বিবিকে বলেছিলাম, বিবি, আপনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল যে তারা ইজরায়েলের মাঝখানে পারমাণবিক অস্ত্র ফেলবে। তাদের মাত্র একটিই প্রয়োজন হবে এবং ইজরায়েলের আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন একথা বলেন সেই সময় তাঁর পাশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাঁড়িয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘একটু ভেবে দেখুন, বিবি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি আপনি চাইছিলেন সেটাই পেয়েছেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন এই চুক্তিতে ইজরায়েল খুবই খুশি।‘

তবে এই শান্তি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ লেবাননকে ঘিরে। সেখানে ইজরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত এবং লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদিও নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করা বা লেবানন থেকে সেনা সরানোর কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। এদিকে ট্রাম্প লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিল।

এই সমঝোতা ইজরায়েলের ভিতরেও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করে দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই দায়ী। ফলে চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আশার আবহ তৈরি হলেও বিতর্ক এখনই থামছে না।