বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প শুরু হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে পালাবদলের পরেই বিজেপি তাদের কথামতো একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প শুরু করেছে। তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প হল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। জুন মাস থেকেই রাজ্যের অনেক মহিলারা এই প্রকল্পের টাকা পেতে শুরু করেছেন। কিন্তু অনেকে ফর্ম ফিলাপ করার পরেও টাকা পাননি। তাঁদের অ্যাকাউন্টে কবে টাকা ঢুকবে? এবার সেই বিষয়ে বিশদে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ফলতার একটি জনকল্যাণমূলক শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি জানান, ৩ জুন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে সেই অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ২৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা ঢুকেছে। ১ কোটি ৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন। এখনও পর্যন্ত যাঁরা ফর্ম ফিলাপ করেছেন, তাঁদের ভেরিফিকেশন শেষের পরে পোর্টালে নাম উঠে গিয়েছে।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, যাঁদের নাম পোর্টালে উঠে গিয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে পয়লা জুলাই থেকে তিন হাজার টাকা ঢুকতে শুরু করবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপের সময়ে মহিলাদের নিজেদের পরিবারের অনেক তথ্যই দিতে হচ্ছে। সেইসব তথ্য নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার ফলতার শিবির থেকে তিনি সেই বিষয় নিয়েও কথা বলেন। ফর্ম ফিলাপের সময়ে সন্তানদের তথ্যের বিষয় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁদের সন্তান বেসরকারি স্কুলে পড়ে তাঁদের যদি সরকারের অনুমোদন থাকে, তাহলে তাঁরা তিন হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে, যাঁদের সন্তানরা সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়েন তাঁরা এমনিতেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে একাধিক তথ্য দিতে হচ্ছে বলে অনেকেই নানান প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। এ নিয়ে বিরোধীরাও বর্তমান সরকারকে নানা কটাক্ষ করেছে। এদিন সেই বিষয় নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকারের আমলে রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বহু পুরুষ এতদিন ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে এসেছেন। রাজ্যে যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আর এরকম দুর্নীতি না হয়, তার জন্য ফর্ম ফিলাপের সময়ে একাধিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে যাচাই করার জন্য।




