চলতি বছরে নিট ইউজি পুনঃপরীক্ষার আগে গোটা দেশজুড়ে টেলিগ্রাম অ্যাপ বন্ধ করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। মূলত নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের তরফে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবার কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দারস্থ হল টেলিগ্রাম। সূত্রের খবর, বুধবারই মামলাটি বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।
টেলিগ্রামের দাবি, এভাবে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে ভারতের লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেই সঙ্গে ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলেও অভিযোগ করেছে টেলিগ্রাম। ন্যাশানাল টেস্টিং এজেন্সির ডিরেক্টর অভিষেক সিং বলেন, ‘প্রতারক ও জালিয়াতরা টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্ম অপব্যবহার করছিল। তাই আমরা বাধ্য হয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।’ নিট পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুল তথ্য রুখতে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রককে আপাতত টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করতে হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এনটিএ ইতিমধ্যেই টেলিগ্রাম কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। যেসব গ্রুপ ও চ্যানেল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করেছিল, এরকম ২০০টিরও বেশি চ্যানেলকে ব্লক করা হয়েছে। এই বিষয়ে এনটিএ জানিয়েছে, ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা হবে। এই বিধিনিষেধ পরীক্ষার পরের দিন অর্থাৎ ২২ জুন পর্যন্ত গোটা দেশে কার্যকর থাকবে। নিটের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে আর বাইরে পাওয়া যাবে না। টেলিগ্রামে যেসব চ্যানেল প্রশ্ন ফাঁসের দাবি করেছে, তারা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তবে অ্যাপটিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পরে এনটিএ জানিয়েছে, টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী লক্ষ লক্ষ নাগরিকের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হবে। সেই জন্য তারা দুঃখিত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক যৌথ পর্যালোচনার পরে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা স্বাগত জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট পরীক্ষা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার আগে নিটের প্রশ্নপত্র থেকে ১০০-র বেশি প্রশ্ন টেলিগ্রাম-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। শুধু তাই নয়, কয়েকটি গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে রীতিমতো নিটের প্রশ্নপত্র কেনাবেচা হয়েছিল। মূলত টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করেই সেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এর জন্য কর্তৃপক্ষ সেই সময়ে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।




