তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা যে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দলটি ত্রিপুরার একটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল। তবে এখনও পর্যন্ত জাতীয় বা রাজ্য স্তরের স্বীকৃতি পায়নি তারা।দলটির রাজনৈতিক উপস্থিতি মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতে সীমাবদ্ধ। ত্রিপুরার গত বিধানসভা নির্বাচনে এনসিপিআইয়ের প্রার্থী হিসেবে ৫৩ নম্বর কৈলাসহর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জাহাঙ্গির আলি। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মোট পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।
জাহাঙ্গির জানান, কৈলাসহর কেন্দ্রে তিনি নিজে প্রায় ৬০০ ভোট পেয়েছিলেন। যদিও ভোটের নিরিখে উল্লেখযোগ্য সাফল্য না এলেও সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এনসিপিআইয়ে যোগদানের ঘোষণার পর দলটিকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এত দিন তুলনামূলকভাবে অচেনা এই রাজনৈতিক দলের নাম এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নথিভুক্ত দল হলেও রাজ্য বা জাতীয় দলের স্বীকৃতি না থাকায় সাংগঠনিক ও নির্বাচনী ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব এখনও সীমিত বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার ধলাই জেলার চৌমানু কেন্দ্রে এবং উনকোটি জেলার কৈলাসহর কেন্দ্রে এনসিপিআই-এর প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল, তৃণমূলের মধ্যেই আলাদা ব্লক গড়ে তুলবেন। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আসন বদলে দেওয়ার দাবি জানাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা দেখা গেল না।
এখন এই দলেরই সদস্য এখন কাকলী ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, মালা রায় থেকে শুরু করে দেব, সায়নী ঘোষরা। আইনি জট এড়াতেই পৃথক দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ নিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। সেক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা হাতছাড়া হওয়া বাদে দলের তেমন কোনও ক্ষতি হলো না। হাওড়ার বাঁকরার ঠিকানায় নথিভুক্ত এই পার্টি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই দলেই মিশে গেলেন কাকলি-সুদীপরা। কাকলি ঘোষদস্তিদার সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আমরা যারা নির্বাচিত সাংসদ, তারা দলের প্রতি আমাদের ক্ষোভ আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছি এবং আলাদা দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানাই।’




