আসামে ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য নতুন আধার কার্ড ইস্যু নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের হাতে আধার কার্ড পৌঁছে যাওয়া আটকাতেই এই পদক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সে নতুন আধার কার্ডের আবেদন সাধারণ নিয়মে গ্রহণ করা হবে না। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা এবং তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত আগের নিয়মে আধার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে ১৮ বছরের নিচে থাকা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের আধার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া আগের মতোই চালু থাকবে।
শনিবার মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আধার কার্ড সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগেরই অংশ।
সরকারের মতে, কোনও অনুপ্রবেশকারীর হাতে আধার কার্ড চলে গেলে তাঁকে শনাক্ত করা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়ে। এনআরসি সংক্রান্ত মামলার সময়ও আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের একমাত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য ছিল, আধার মূলত পরিচয়পত্র। নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। যদিও পরে সুপ্রিম কোর্ট আধারকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়।
কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আধারের জন্য আবেদন করলে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকার আবেদনটি যাচাই করে যদি মনে করে যে আবেদনকারীর আধার পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে, তাহলে তাঁকে কার্ড প্রদান করা হবে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ নাগরিকদের কোনও প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। বরং আধার ইস্যুর ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে।




