জরায়ুমুখ বা সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার মহিলাদের কাছে একটা বড়সড় চিন্তার বিষয়। এবার আগাম এই ব্যধি থেকে মহিলাদের মুক্তি দিতে রাজ্যে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এবার রাজ্যের মহিলারাও এই টিকাকরণের সুবিধা পাচ্ছেন। গত ৩০ মে থেকে রাজ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা বিনামূল্যে দেওয়া শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এবার রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে পাঠরত কিশোরী ছাত্রীদেরও এই টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশিকা মেনে এই প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মধ্যেও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।
বাংলাতেও কেন্দ্রের এই ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যে ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। রাজ্যের ১০ লক্ষাধিক কিশোরী এই টিকা পাবে। সেই জন্য ইউ উইন পোর্টাল ব্যবহার করা হয়েছে। সোম থেকে শনিবার পর্যন্ত এই টিকাকরণ চালানো হবে। ফ্রি টিকাকরণের জন্য রাজ্যে ৭ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি টিকা ডোজ আনা হয়েছে।
রাজ্যে তিন মাস ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। জুন মাসে স্কুলভিত্তিক লাইন-লিস্টিং এবং বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা হবে। জুলাই মাসে মূল টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হবে। যেসব উপভোক্তারা বাদ পড়েছেন তাদের জন্য অগাস্ট মাসে মপ-আপ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। টিকাদান কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
উপভোক্তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় প্রি-রেজিস্ট্রেশন কিংবা সরাসরি কেন্দ্রেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এর পাশাপাশি ইউ-ডব্লিউআইএন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। ইভিআইএন-এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন মজুত ও সরবরাহের পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইউ-ডব্লিউআইএন পোর্টাল থেকে ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যাবে। শুধুমাত্র গর্ভবতী ও যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, সেইসব মহিলাদের এই টিকাকরণের আওতায় রাখা হবে না।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই রোগে আক্রান্তের পাশাপাশি প্রতি বছর মৃত্যুহারের পরিমাণও বাড়ছে। এমন অবস্থায় রাজ্যে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকাকরণ চালু হলে মহিলারা যে অনেকাংশেই উপকৃত হবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




