• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

৫০ শতাংশ দাম বাড়ল ক্যানসারের ওষুধের

ক্যানসারের দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ কার্বোপ্লাটিন এবং সিসপ্লাটিন-এর দাম ৫০ শতাংশ  বাড়ানোর অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ কার্বোপ্লাটিন (Carboplatin) এবং সিসপ্লাটিন (Cisplatin)-এর দাম ৫০ শতাংশ  বাড়ানোর অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ওষুধ দুটির সরবরাহ বজায় রাখা এবং বাজারে ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA)।

কার্বোপ্লাটিন এবং সিসপ্লাটিন বহু ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রথম সারির ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি দেশের একাধিক হাসপাতাল, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি সম্প্রতি এই ওষুধগুলির ঘাটতি ও সরবরাহে বিঘ্নের বিষয়টি এনপিপিএ-র নজরে আনে। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মনে করা হচ্ছে বাজারে এই দুই ওষুধের কালোবাজারির সম্ভবনাতেও রাশ টানা যাবে।

১১ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এনপিপিএ জানিয়েছে, এই দুই ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস (API)-এর দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষে ওষুধ তৈরি ও সরবরাহ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থাকছে না। এর জেরেই বাজারে ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কার্বোপ্লাটিন ইনজেকশন (১০ মিগ্রা/মিলি)-এর সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মিলিলিটারে ৯০.৭৪ টাকা। অন্যদিকে, সিসপ্লাটিন ইনজেকশন (১ মিগ্রা/মিলি)-এর সর্বোচ্চ মূল্য ধার্য করা হয়েছে প্রতি মিলিলিটারে ১০.৮৯ টাকা। এই মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য জিএসটি অতিরিক্তভাবে যোগ হবে।

এনপিপিএ-র মতে, ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে এই ওষুধগুলির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। যদি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি হয়, তবে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে এবং তাঁদের তুলনামূলকভাবে বেশি দামের বিকল্প ওষুধের উপর নির্ভর করতে হতে পারে। এতে চিকিৎসার খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত মূল্য আগামী ছয় মাস পর পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কাঁচামালের দামের ওঠানামা এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার আগেও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি উৎসাহিত হবে এবং ক্যানসার রোগীদের জন্য অত্যাবশ্যক ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে। তবে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেনীর মানুষদের যাতে এই ওষুধ পেতে কোন সমস্যা না হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।