জার্মানির বার্লিনে ‘প্রাইড ওয়াক’ মিছিলে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। শনিবারের হামলায় ১ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। রবিবার শহরতলির স্প্যানডাউ এলাকা থেকে তাঁকে আটক করতে গেলে তিনি পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামলার সময় অভিযুক্ত প্রথমে একটি ভ্যান নিয়ে প্রাইড মিছিলে ঢুকে পড়েন। এরপর গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত মানুষের উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালাতে থাকেন। এতে ১ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
জার্মান পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অভিযুক্তের নাম আবদুল বাল্লাউত। তিনি লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। পুলিশ সূত্রের দাবি, অতীতে উগ্রপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁর নাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। জার্মানির এক সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে তিনি লেবানন গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এ যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট হামলার ঘটনাকে ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদ-প্রভাবিত হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তর উগ্রপন্থী যোগ রয়েছে কিনা তা যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনি তাঁর অতীতের কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তকে প্রথমে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ছুরি হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে তেড়ে এলে আত্মরক্ষা করতে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর এই হামলার নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না তা নিয়েও তদন্ত করছে জার্মান কর্তৃপক্ষ।




