ফুটপাথে দোকান পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ফের বিতর্কে জড়ালেন কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তাঁর এবং আরও চার সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আনন্দপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন কসবার এক বাসিন্দা। অভিযোগ, দোকান দেওয়ার নাম করে সাত লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে আনন্দপুর এলাকায় ফুটপাথের উপর সাত ফুটের একটি দোকান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর সহযোগীরা। অভিযোগকারীর দাবি, দোকানটির জন্য কলকাতা পুরসভার নামে একটি লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ভুয়ো বলে সন্দেহ তৈরি হয়। এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তাঁর কাছ থেকে মোট সাত লক্ষ টাকা নেওয়া হয়।
তবে টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাত ফুটের দোকান না দিয়ে মাত্র চার ফুটের একটি ছোট দোকান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তাঁকে কার্যত চাপ সৃষ্টি করেই ওই ছোট দোকান গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যে জায়গাটি দোকান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, সেটি আগে রুবি বাজার কমিটির অ্যাম্বুল্যান্স রাখার ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জায়গার কোনও বৈধ সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে আনন্দপুর থানা। তবে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। গত ২৯ মে ইএম বাইপাস সংলগ্ন রুবি মোড় এলাকার হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ফুটপাথে দোকান বরাদ্দের নামে একাধিক হকারের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। হকার সংগঠনের দাবি, এভাবে মোট প্রায় তিন কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।
এর আগেও ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন হকার আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছিলেন যে, দোকান পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই সুশান্ত ঘোষ গা-ঢাকা দেন বলে জানা যায়। তাঁকে খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ওড়িশা পর্যন্ত তল্লাশি চালায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যান। যদিও তাঁর গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে ইতিমধ্যেই সুশান্ত ঘোষের নামে একাধিক সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বেনামি সম্পত্তিরও খোঁজ মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্পদের মোট মূল্য কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। এই সম্পত্তির উৎস এবং অভিযোগে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিতর্কের জেরে গত মাসে তিনি কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও এখনও কাউন্সিলর পদে ইস্তফা দেননি। নতুন এফআইআরের পর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




