উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের রাজ্যের ধর্মান্তর-বিরোধী আইনকে সমর্থন করে ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন। মঙ্গলবার লখনউতে নয়দিনব্যাপী শ্রী রাম কথা মহোৎসবের শেষদিন ছিল। সেই অনুষ্ঠান থেকে তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলানোর উদ্দেশ্যে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলে অতীতে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তা গুরুত্ব পায়নি।’
যোগীর দাবি, ২০০৯ এবং ২০১১ সালে কেরল হাইকোর্ট এই বিষয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তখন কেউ তা গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২০ সালে এ বিষয়ে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা জীবনে রামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাদের ভালো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশে ধর্মান্তর-বিরোধী আইন কার্যকর করা হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই আইনের উদ্দেশ্য হল জোরপূর্বক কিংবা প্রতারণা করে যাতে কেউ ধর্ম পরিবর্তন করতে না পারে। তবে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মের মূল্যবোধ অনুসরণ করছে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অখিলেশ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ভালোবাসা মানুষের প্রতি নয়, জমির প্রতি। সনাতন ধর্ম আমাদের ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সত্যের পথ দেখায়। কিন্তু রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই পথ অনুসরণ করছে না।’ এর আগে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। ভোপালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘এই ধরনের ঘটনা রুখতে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করা উচিত।’ তিনি সমাজে পারিবারিক কাঠামোর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।
এদিকে উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে ধর্মান্তর-বিরোধী আইন নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, কর্ণাটক, ঝাড়খণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের আইনগুলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সমর্থকদের দাবি, জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তর রোধে এই আইন প্রয়োজনীয়। ফলে ‘লাভ জিহাদ’ ও ধর্মান্তর-বিরোধী আইন নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।




