• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 9 June, 2026

‘ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থের সঙ্গে আপস চলবে না’, ক্রীড়ামন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে চাপে ক্লাব, ফেডারেশন

জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়া নিয়ে গড়িমসি করা আর চলবে না। ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে জাতীয় কোচ যে ফুটবলারদের চাইবেন, তাঁদের ছাড়তে হবে।

সোমবার নয়াদিল্লিতে আইএসএলের ক্লাবজোট, ফেডারেশন ও ক্রীড়ামন্ত্রীর মধ্যে যে বৈঠক হয়, তাতে মূলত আইএসএল নিয়ে আলোচনা হলেও ভারতীয় দল নিয়েও আলোচনা হয় এবং তাতেই ক্রীড়ামন্ত্রী ক্লাব প্রতিনিধিদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়া নিয়ে গড়িমসি করা আর চলবে না। জাতীয় দলের স্বার্থে এবং ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে জাতীয় কোচ যে ফুটবলারদের চাইবেন, তাঁদের ছাড়তে হবে।
এই বৈঠকে উপস্থিত এক কর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় দলের এই সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। জাতীয় দলের উন্নতিতে যে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন, তাও জানান তিনি। ভারতের ফরোয়ার্ড, কোচ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের যে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, তাও বলেন তিনি।
অতীতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট একাধিকবার জাতীয় দলের জন্য তাদের ক্লাবের খেলোয়াড়দের রিলিজ অর্ডার দেয়নি। সম্প্রতি ইংল্যান্ডে ইউনিটি কাপে খেলতে যাওয়ার ঠিক আগেই জাতীয় দল থেকে তাদের সাতজন খেলোয়াড় প্রত্যাহার করে নেয় সবুজ-মেরুন বাহিনী।
এই ঘটনায় আপত্তি জানিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী মান্ডব্য সাফ জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘কল্যাণ চৌবে বা আমাকে নিয়ে কোনও ক্লাবের সমস্যা থাকতে পারে। তাই বলে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু করা যাবে না। এই ঘটন যদি ফের ঘটে, তা হলে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে’।
শুধু মোহনবাগান নয়, আরও কয়েকটি ক্লাবও অতীতে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে রাজি হয়নি। তারা যুক্তি দিয়েছে, ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচের উইন্ডোর বাইরে ভারতীয় দলের প্রস্তুতির সময় খেলোয়াড়দের ছাড়া হলে, তাদের যদি ওই সময় চোট লাগে, তা হলে বীমা সংক্রান্ত সমস্যা হয়। ফুটবলারদের গুরুতর চোট হলে ক্লাব ম্যাচে তাদের পাওয়াও কঠিন হয়ে যায়। এই নিয়ে ক্লাব ও ফেডারেশনের মধ্যে টালবাহানা চলছে অনেক দিন ধরেই।
ইউনিটি কাপের আগে হঠাৎ খেলোয়াড় প্রত্যাহার করা ছাড়াও কাফা নেশনস কাপে অংশ নেওয়া ভারতীয় দলের জন্যও বিশাল কয়েথ, সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা-সহ একাধিক ফুটবলারকে ছাড়তে চায়নি মোহনবাগান এসজি। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে ভারতের যে দল গিয়েছিল, তাতেও আইএসএল ক্লাবগুলি তাদের খেলোয়াড়দের ছাড়তে রাজি ছিল না ওই সময় আইএসএল চলায়। এএফসি অনূর্ধ্ব ২৩ এশীয় কাপ বাছাই পর্বের জন্যও মোহনবাগান ছাড়তে রাজি হয়নি সুহেল ভাট, অভিষেক সিংদের। ভারত অল্পের জন্য মূলপর্বে উঠতে পারেনি। তখন অনেকে বলেছিলেন, মোহনবাগান ওই দুই ফুটবলারকে ছেড়ে দিলে হয়তো ভারত সাফল্য পেত।
এর পরে যাতে এই ঘটনা আর না ঘটে, সেই হুঁশিয়ারিই দিয়ে রাখলেন ক্রীড়ামন্ত্রী মান্ডব্য। এখন এটাই দেখার ক্লাবগুলি এই হুঁশিয়ারিকে কতটা গুরুত্ব দেয়। ক্রীড়ামন্ত্রীর কথা না মানলেই বা তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় সরকার বা ফেডারেশন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।