হুগলির বাঁশবেড়িয়া পুরসভায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা আরও গভীর হল। মঙ্গলবার একযোগে পদত্যাগ করলেন পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস মুখার্জি এবং ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী চ্যাটার্জী। তাঁরা চুঁচুড়ার সদর মহকুমা শাসকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলার একাধিক পুর সংস্থায় পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। চন্দননগর পুর নিগমে মেয়র, ডেপুটি মেয়র এবং অধিকাংশ কাউন্সিলর পদ ছেড়েছেন। একইভাবে ভদ্রেশ্বর পুরসভাতেও চেয়ারম্যান-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বাঁশবেড়িয়া পুরসভা।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাপস মুখার্জি জানান, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর পুরসভার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে পুরসভার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখা এবং উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাপস মুখার্জির কথায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পদে থেকে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে এই ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন সপ্তগ্রামের বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আর্থিক সংকট নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব দিতে না পারার কারণেই পুরকর্তারা পদত্যাগ করেছেন।
স্বরাজ ঘোষের দাবি, পথশ্রী প্রকল্পে প্রায় ২৭ কোটি টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ১২ কোটি টাকার ব্যয়ের সঠিক হিসাব নেই। এছাড়াও পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণ, পুকুর ভরাট, অবৈধ নিয়োগ, পোর্ট ট্রাস্টের জমি প্লট করে বিক্রি এবং স্ক্র্যাপ বিক্রির টেন্ডারে অনিয়মের মতো একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
বিজেপি বিধায়কের আরও অভিযোগ, পুরসভার নথিতে থাকা কয়েকজন অস্থায়ী কর্মীর নাম অন্য সংস্থার কর্মী হিসেবেও নথিভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আবাস যোজনার অর্থ প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যদিও বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি পদত্যাগী চেয়ারম্যান তাপস মুখার্জি বা পুরসভার অন্যান্য কর্তারা।
ফলে বাঁশবেড়িয়া পুরসভার এই জোড়া পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।




