ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণ, প্রভাব খাটানো এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল বিজেপির অন্দরে। সেই পরিস্থিতিতে এবার কড়া বার্তা দিল রাজ্য নেতৃত্ব। রবিবার অনুষ্ঠিত দলের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনও কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়ক—কেউই রেহাই পাবেন না।
সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিযোগের বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। পার্টি অফিস দখল, জোর করে বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনা গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া, তোলাবাজি, জমি ও বাড়ি দখলের মতো একাধিক অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি উপস্থিত নেতাদের সতর্ক করে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রভাব খাটান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্য সভাপতির বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে দলের আপসহীন মনোভাব। তিনি বলেন, “দলের সর্বস্তরে নজরদারি চলছে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখা হবে। কেউ যদি মনে করেন বিজেপির নাম ভাঙিয়ে যা খুশি করা যাবে, তাহলে তিনি ভুল করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শমীক আরও জানান, প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না দল। তাঁর কথায়, “দলের ভাবমূর্তি ও আদর্শ রক্ষাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৫-৭ জন বিধায়ককে বহিষ্কার করতে হলেও দলের কোনও ক্ষতি হবে না। ব্যক্তি নয়, সংগঠনই বড়।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে তিনি আরও বলেন, বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক মূল্যবোধকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই কোনওভাবেই অন্য রাজনৈতিক দলের নেতিবাচক সংস্কৃতি বা আচরণ বিজেপির মধ্যে স্থান পাবে না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বিজেপিতে তৃণমূলের সংস্কৃতি চলবে না। আইন মেনে, সংগঠনের নিয়ম মেনে এবং মানুষের আস্থা বজায় রেখেই সকলকে কাজ করতে হবে।”
রাজ্য সভাপতির এই কড়া অবস্থানকে দলের অন্দরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।




