সিএএ বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গে। আর তার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ট্রেনের একের পর এক কামরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রেলের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির। এই ঘটনায় টানা দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল রেল চলাচল। পরিষেবা থমকে গিয়েছিল। তখন যাদের বিরুদ্ধে রেলের সম্পত্তি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছিল, তাদের চিহ্নিত করে নতুন করে ফাইল খোলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লালবাজারে তিনি স্পেশাল সেল খুলে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। শনিবারই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব কলকাতা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মেগা বৈঠক করেন। সেখান থেকে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। এরপরই ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্যের নানা জায়গায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল। ওই অভিযোগগুলি তদন্ত করে দেখার জন্য রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাইল পুনরায় খোলার আবেদন রেলমন্ত্রীর কাছে জানান শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিলতেই এই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সংসদের উভয়কক্ষে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএএ)। তার পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেতেই তা আইনে পরিণত হয়। তখন সিএএ-র বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও সেই বিক্ষোভের আঁচ আছড়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে তখন প্রতিবাদ চরম আকার নিয়েছিল। স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ফাঁকা ট্রেনে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে ট্রেনের একের পর এক কামরা। এই ঘটনার জেরে তখন একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করতে হয়েছিল। বিপুল সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছিল রেলের। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর ওই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন সরকার। এদিন রাজ্যের পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ২০১৯ সালের সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের যত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, সেসবের তদন্ত করতে হবে। সব অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ সেল গঠনেরও নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রীকে বলেছেন, ভবানীপুরে আরপিএফের অফিস তৈরি করে দিতে। সেখানে কম্পিউটারে যাবতীয় নথি এই ব্যাপারে খতিয়ে দেখবেন রেল পুলিশের অফিসাররা। দোষীদের পুরনো ফাইল সেখানেই খোলা হবে। নবান্ন সূত্রে এমনই খবর মিলেছে।




