• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 3 June, 2026

সব কমিটি ভেঙে দিল তৃণমূল

রাজ্যে দলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজ্যে দলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলের অন্দরে ভাঙনের আশঙ্কা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, রাজ্যের সমস্ত স্তরের সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, সংগঠনের বর্তমান কাঠামোকে নতুন করে মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, প্রতিটি স্তরে সাংগঠনিক পর্যালোচনা চালানো হবে এবং তার ভিত্তিতেই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফল এবং তার পর থেকেই তৈরি হওয়া বিদ্রোহী শিবিরের তৎপরতার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকের ধারণা, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র, যুব, শ্রমিক এবং মহিলা সংগঠন-সহ গোটা সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন।

এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবিতে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে চিঠি জমা দেন বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে ঋতব্রত ছাড়াও আরও ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে।

চিঠিতে শুধু বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতের নামই নয়, বিধানসভায় দলের সম্ভাব্য উপদলনেতাদের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। স্পিকার ওই চিঠি গ্রহণ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সভানেত্রী হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার ফলে বিদ্রোহী শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বহু নেতা ও পদাধিকারীও কার্যত সাংগঠনিক দায়িত্ব হারালেন। ফলে এই সিদ্ধান্তকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠন এবং সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।