আহমেদাবাদ— ভারতীয় ক্রিকেটে এই মুহূর্তে উজ্জ্বল কিশোর প্রতিভা বলতেই বৈভব সূর্যবংশী। বৈভব এখন খবরের শিরোনামে। আইপিএল ক্রিকেটেই তার স্বপ্নের অভিযান শুরু। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এবারের আইপিএল ক্রিকেটে কমলা টুপির মালিক হয়ে গেল বৈভব। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তার দুরন্ত ব্যাটিং সবাইকে মোহিত করেছে। আর এবারে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে কবে বৈভব দাপট দেখাবে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। কবে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে, তা নিয়ে এবারে অবস্থান স্পষ্ট করল বিসিসিআই। তবে বৈভবের রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়নি। তবুও রাজস্থানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার বলতেই বৈভব। তার দল রাজস্থান ফাইনালে খেলেনি। তবু ট্রফি দেওয়ার অনুষ্ঠানে বৈভবের দিকেই যত নজর। পাঁচটি ব্যক্তিগত খেতাব জিতেছে ১৫ বছর বয়সি ক্রিকেটার। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আরসিবি ও গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ফাইনাল চলাকালীন বৈভবের পাশে বসে ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। ফাইনালের পর বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়াকে বৈভবের আন্তর্জাতিক অভিষেক সম্পর্কে জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি স্পষ্ট জানালেন, ‘এবারের আইপিএল ক্রিকেটের প্রতিটি খেলায় দারুণ উপভোগ করা গেছে। টানা দু’বার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় অবশ্যই খেলোয়াড়দের অভিনন্দন। তবে হ্যাঁ, রাজস্থানের কিশোর ক্রিকেটার বৈভবের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। তাই বৈভবকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য বিসিসিআইয়ের অবশ্যই ভাবনা রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি বৈভবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবারের আইপিএল ক্রিকেটে বৈভবই তো সবার নজরে। সবচেয়ে বেশি রান করার জন্য পেয়েছে কমলা টুপি। আর আর্থিক পুরস্কার হিসেবে তাকে তুলে দেওয়া হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হিসেবে বৈভবকে দেওয়া হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা। এ বাদেও রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট। তার জন্যও ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার পায়। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারে বৈভবকে সম্মানিত করা হয়। আবার টুর্নামেন্টের সেরা প্রতিভা হিসেবে পেয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এত আর্থিক পুরস্কার অতীতে কোনও ক্রিকেটার পাননি। ভাবতেও অবাক লাগে, তার ব্যাট থেকে ৭২টি ছক্কা এসেছে। তাই বৈভবকে ভারতীয় দলে দেখতে চাইছেন ক্রিকেট ভক্তরা।
সেই সঙ্গে আইপিএল ক্রিকেটে কলকাতার ইডেন উদ্যানের উইকেটকে সেরা বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বলতে দ্বিধা নেই, এখানকার উইকেট যেভাবে তৈরি করা হয়, তা যে কোনও ক্রিকেট সংস্থাকে পিছনে ফেলে দিতে পারে। পাশাপাশি, বলতে পারা যায়, সারা পৃথিবীর সেরা ক্রিকেটাররা ইডেনের উইকেটে স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেন।তাই প্রমাণিত হয়ে গেল বিশ্বের সেরা উইকেটের মধ্যে কলকাতার নামটা অবশ্যই আসবে। গত রবিবার রাতে এই অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। ওইদিন মাঠে এসছিলেন সিএবি-র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি ও যুগ্মসচিব বাবলু কোলে।




