পরিচারিকা থেকে রাজ্যের মন্ত্রী সভায় নিজের জায়গা করে নিলেন কলিতা মাঝি। সোমবার রাজ্য মন্ত্রীসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। এই ঘটনায় রাজ্য বিধানসভায় এক ইতিহাস সৃষ্টি হল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। কলিতা মাঝি পূর্ব বর্ধমান জেলার জঙ্গলমহলের আউসগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। আর প্রথমবার জয়ী হয়েই মন্ত্রী হলেন।
সকাল থেকে অন্যের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করতে হয় কলিতা মাঝিকে। এবার ভোটের আগে প্রচারের সময় টুকুও সেভাবে পাননি। সন্ধ্যার পর অন্যের মোবাইল, আর টর্চের আলোয় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রাত পর্যন্ত ঘরে ঘরে ঘুরেছেন। সঙ্গে ছিলেন গুটি কয়েক দলীয় কর্মী এবং এলাকার মহিলারা। সেই জীবন যুদ্ধে লড়াই করা কলিতা মাঝি এবার ভোটে জয়ী হয়েছেন। এর আগে বিজেপির এই মহিলা প্রার্থী পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম লোকসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন।
তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। তাঁকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। যা বিধানসভা এলাকায় নজির সৃষ্টি বলে দাবি সকলের। আদিবাসী গৃহবধূ কলিতা মাঝির অভাব আর অনটনের সঙ্গে লড়াই দীর্ঘদিনের। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, বাড়ি বাড়ি কাজ করে কোনও রকমে তাঁর সংসার চলে। সকাল আটটায় ঘর থেকে বের হয়ে দুপুর গড়িয়ে যায়।
মানুষের সঙ্গে তাঁর অবাধ মেলামেশা। সাধারণ পরিবারগুলোর পাশে থাকার বাসনা দীর্ঘ দিনের। তাই গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর কাছে যখন প্রার্থী হবার প্রস্তাব এসেছিল বিজেপির কাছ থেকে, তখন তিনি রাজি হয়ে যান। কিন্তু সেবার তিনি পরাজিত হন। কিন্তু দমে না গিয়ে এবারেরও প্রার্থী হন। আউসগ্রামের একটি ছোট ঘর থেকে বিধায়ক হয়ে তিনি বিধানসভায় বসবেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কলিতা আমাদের বাড়ির কাজের লোক ছিল না, সে আমাদের ঘরের মেয়ে। তাই তার মন্ত্রী হবার খবরে খুশি সকলেই।
এবার প্রার্থী হবার পর তাঁর নাম এসআইআরে বিবেচনাধীন ছিল। পরে নাম তালিকা ভুক্ত হয়। মন্ত্রী হয়ে সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে চান তিনি। কলিতা জানিয়েছেন, মোদীজি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি তা পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, আউসগ্রামের কোনও উন্নয়ন হয়নি। সবটাই তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঁওতা। এবার তিনি পানীয় জল, রাস্তাঘাট, গরিব মানুষের জন্য আবাসন, নিকাশি ব্যবস্থা সহ একাধিক কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। জঙ্গলমহলের মানুষ অনেক কষ্টে আছেন, তাদের কষ্ট দুর করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী কলিতা মাঝি।