অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতি ফের একবার মনে করিয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন ০-১৫ কিলোমিটার এলাকায় সমস্ত অবৈধ দখলদারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সীমান্তবর্তী এলাকায় উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো কেন্দ্রগুলির উপর কড়া নজরদারি রাখার কথাও অমিত শাহ বলেন।
গুজরাতের ভুজে আয়োজিত একটি নিরাপত্তা পর্যলোচনার বৈঠক থেকে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন গুজরাতের সীমান্ত ও উপকূলীয় জেলাগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়েও এদিন আলোচনা হয়।
Advertisement
অমিত শাহ বলেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়া, সামুদ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্য সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সচিচ্ছার ফলে গুজরাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছেন। এর ফলে রাজ্যে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে চোরাচালান কার্যত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
Advertisement
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই জেলা শাসকদের এই ধরনের পরিবর্তনের উপর কড়া নজরদারি রাখতে হবে এবং নিয়মিত রিপোর্ট দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কারণে সীমান্ত এলাকায় যে অভিবাসন শুরু হয়েছে, তা ইতিবাচক লক্ষ্মণ। তাঁর মতে থানার কর্মী থেকে শুরু করে পাটওয়ারি পর্যন্ত সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিনিট সীমান্ত জেলার বিশে, সমস্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরি করতে হবে। যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ, ড্রোণ সংক্রান্ত হুমকি এবং মাদর পাচার মোকাবিলা করা যায়।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে হাওয়ালা লেনদেন, আর্থিক লেনদেন, মিউল অ্যাকাউন্ট, শেল কোম্পানি, সন্দেহজনক যানবাহন এবং জিএসটি আদায়ের উপর কড়া নজরদারি বজায় রাখার উপর জোর দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অপরাধ দমনকারী সংস্থাগুলিকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত রাখতে হবে। পাশাপাশি আয়কর বিভাগকে আরবিআই-এর সহযোগিতায় ব্যাপক সমীক্ষা ও সচেতনামূলক অভিযান চালানোর পরামর্শ দেন।
অমিত শাহ বলেন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখার নিকটবর্তী হওয়ায় উপকূলীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এ বিষয়ে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে বলে জানান।
Advertisement



