সার্ভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা হল আজ থেকে। সেই মঞ্চ থেকেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, বিজেপি সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে আয়োজিত সার্ভাইকাল ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। কেন্দ্রের সহায়তায় রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের সার্ভাইকাল ক্যানসারের টিকা দেওয়া হবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সাত লক্ষেরও বেশি কিশোরীকে টিকাকরণের আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি স্মরণ করান ১৯৯০-এর বানতলা গণধর্ষণ কাণ্ডের কথা। যেখানে স্বাস্থ্যকর্মী অনিতা দেওয়ান-সহ তিন মহিলা আধিকারিক নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একসময় টিকাকরণ নিয়েও সমাজে ভ্রান্ত ধারণা ও ধর্মীয় বাধা ছিল, যার ফলে বহু রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।’
Advertisement
এরপরই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে সরব হন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, ‘সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ গঠনের জন্য পরিবার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন। সরকারি স্তরে ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প তৈরি করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। জমির উপর মানুষের চাপ কমানো দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে শমীক দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শমীক এদিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তাও দেন। তাঁর কথায়, ‘এই সরকার কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বা দলের জন্য নয়। রাজ্যের ১০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।’ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে না। এই সরকারকে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ করবে না। কোনও বিশেষ দলের কার্যালয় থেকে কোনও চিকিৎসকের বদলির অর্ডার আসবে না। সরকার সরকারের মতো চলবে।’
Advertisement



