• facebook
  • twitter
Friday, 29 May, 2026

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল অনীক দত্তের

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হল বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্তের শেষকৃত্য। শেষকৃত্যের সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন অনীক দত্তের মেয়ে ঐশী দত্ত।

কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হল বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্তের শেষকৃত্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় আবেগঘন পরিবেশে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের উপস্থিতিতে শেষ বিদায় জানানো হয় তাঁকে। আচমকা পরিচালকের মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না টলিউডের অনেকেই। সকাল থেকেই নন্দন চত্বর থেকে কেওড়াতলা পর্যন্ত শোকের আবহ ছিল স্পষ্ট।

শেষকৃত্যের সমস্ত আচার সম্পন্ন করেন অনীক দত্তের মেয়ে ঐশী দত্ত। বাবার শেষযাত্রায় তাঁর মুখে ছিল গভীর শোকের ছাপ। পাশে ছিলেন পরিচালকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তও। পরিবারের এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় টলিউডের বহু পরিচিত মুখকে। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, অভিনেতা সৌরভ দাস, গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র, অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে।

Advertisement

সকালেই নন্দনে আনা হয়েছিল পরিচালকের দেহ। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন অসংখ্য অনুরাগী ও সহকর্মী। ফুল, মালা এবং নীরব প্রার্থনায় তাঁকে স্মরণ করেন সকলে। জীবদ্দশায় নানা বিতর্কে জড়ালেও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অনীক দত্ত যে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর শেষযাত্রায় মানুষের ভিড়ে।

Advertisement

পরিচালকের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘এই সমাজকে যা দিতে পারতেন, তার চেয়ে খুব কমই দিতে পেরেছেন’ তাঁর মতে, অনীক দত্তর মধ্যে আরও অনেক সৃষ্টিশীল কাজের সম্ভাবনা ছিল, যা অসম্পূর্ণই থেকে গেল। বিমান বসুর এই মন্তব্যে ফুটে ওঠে পরিচালকের অসময়ে চলে যাওয়ার আক্ষেপ।

বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যতিক্রমী বিষয় নির্বাচন এবং তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক ভাষার জন্য আলাদা পরিচিতি ছিল অনীক দত্তর। তাঁর একাধিক ছবি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তাই তাঁর মৃত্যু শুধু টলিউডের নয়, বাংলা সংস্কৃতি জগতেরও বড় ক্ষতি বলেই মনে করছেন অনেকেই। শোকস্তব্ধ সহকর্মীদের চোখে বারবার ভেসে উঠেছে একটাই কথা, এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার সময় এখনও হয়নি অনীক দত্তর।

Advertisement