রাজস্থানের পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারদের পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার উপর জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এই নির্দেশ ঘিরে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে।
অনুপ্রবেশ, মাদকের চোরাচালান, অবৈধ দখল, সন্ত্রাসবাদে পুঁজি বিনিয়োগ, এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ জোর দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বা বিএসএফ, কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড বা সিবিডিটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থার কৌশলে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। সীমান্তের জেলাগুলির জন্য ৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের নির্দেশমাফিক সীমান্ত এলাকায় শুধু অনুমোদনহীন নির্মাণের ক্ষেত্রেই নয়, আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপের ওপরেও কড়া নজরদারি চালানো হবে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস কী, কিংবা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও শেল কোম্পানি আছে কি না—সব দিকেই কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। এছাড়াও জাল আধার কার্ড শনাক্ত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধ করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজস্থানের বিকানেরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বুধবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন শাহ। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা-সহ শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিক ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রী গঙ্গানগর ও ফালোদি—এই পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপাররা। মূলত, উন্নত ও সুরক্ষিত সীমান্ত ব্যবস্থার উপর এই বৈঠকে আলোকপাত করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে জটিলতা ছিল। স্থানীয় মানুষের আপত্তি ও প্রশাসনিক জটের কারণে অনেক জায়গায় জমি অধিগ্রহণ আটকে ছিল। তবে সম্প্রতি নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসনগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় যে, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিএসএফের হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি ব্যবহার করা হবে মূলত বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ ও সীমান্তে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। এই পদক্ষেপের ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে বিএসএফ আরও ভালভাবে কাজ করতে পারবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। জমি হস্তান্তরের এই তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলি।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়া ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত-সহ প্রায় ৩,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংবেদনশীল এলাকা জুড়ে কার্যকর হবে। দুই মাস পর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement