রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনুপ্রবেশ রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির কার্যকরী প্রয়োগকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় বসিরহাটের স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকা। সেখানে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় বহু সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীকে দেখা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
ভোট মিটতেই চেনা ছবি দেখা গেল স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে। কয়েক মাস আগেই এসআইআর ঘোষণার পরে এই হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে শ’য়ে শ’য়ে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিল। সেই একই চিত্র দেখা গিয়েছে বিথারী-হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায়। সেখানে বহু নারী-পুরুষ ও যুবককে ছোট ব্যাগ নিয়ে সীমান্তের কাছে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
Advertisement
তাঁদের কয়েকজনের দাবি, দালালচক্রের সহায়তায় প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এসেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা নির্মাণ শ্রমিক, মাছের ভেড়ি ও অন্যান্য দৈনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়ার ফলে আগেভাগেই বাংলাদেশে যাওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
Advertisement
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের নজরদারি অনেকটাই বেড়েছে। পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীদের কোর্টে পাঠানোর দরকার নেই।
যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ অনুপ্রবেশকারীদের বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। রাজ্যকে সুরক্ষিত করা হবে। তার জেরেই আতঙ্কে বহু অনুপ্রবেশকারী এলাকা ছাড়ছেন। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন কয়েকজন আধিকারিক। এহেন পরিস্থিতিতে সীমান্ত অঞ্চলে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Advertisement



