নদিয়ার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং হুগলি— এই তিন জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
শুধু কাকলিই নন, তাঁর পাশাপাশি বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায় দেগঙ্গার সদ্যনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আব্দুল মতিন, বাদুড়িয়ার বুরহানুল মুকাদ্দিম, মিনাখাঁর উষারানি মণ্ডল, বসিরহাট দক্ষিণের সুরজিৎ মিত্রকে নিয়ে মোট ৬ জন বিধায়ক। রাজ্যের নতুন সরকারের বৈঠকে বিরোধী শিবিরের এই জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।
Advertisement
এদিন বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নতুন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনই এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা মূলত জোর দিয়েছি স্বল্পমেয়াদে নবনির্বাচিতদের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। আমরা ঠিক কেমনভাবে রাজ্য চালাতে চাইছি, আমাদের ‘সংকল্প পত্র’ কী তা প্রতিটি সরকারি দফতরে পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আর সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
Advertisement
বিগত তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক বৈঠকগুলির তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধের বার্তা দেন। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে তিনি বলেন, আগে আপনারা দেখেছেন একটা বৈঠক করতে কত কোটি টাকা খরচ করা হত। তিন দিন ধরে এলাহি দক্ষযজ্ঞ চলত, হেলিকপ্টার নামত। এখন যেটুকু না করলেই নয়, আমাদের সরকার ঠিক সেটুকুই করছে। আমরা নিজেদের বৈভব দেখাতে চাই না, ক্ষমতা দেখাতেও চাই না।
বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নিজের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, আমি আগের জমানায় কখনও কোনও বৈঠকে ডাক পাইনি। তাই প্রথম থেকেই আমি সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলেছিলাম। আমরা বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব। আমরা চাই, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুবিধা বাংলার সাধারণ মানুষ পাক। শুধু ভোটের সময় কাজ দেখাব, আমাদের সরকার সেই নীতিতে বিশ্বাসী নয়।
প্রশাসনিক বৈঠক শুরুর আগেই প্রবেশ করেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমন্ত্রণ পেয়েছি, তাই এসেছি। প্রশাসনটা কারও একার নয়, এটা কোনও দলীয় সভা নয়।স্বরূপনগরের তৃণমূলের বিধায়ক বীনা মণ্ডল বলেন, এটা প্রশাসনিক বৈঠক। এলাকার কাজটা তো করতে হবে। তাই এখানে এসেছি।
এছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করা হবে। অফলাইন ও অনলাইন, দুই ভাবেই ফর্ম পাওয়া যাবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার টাকা পেতে ওই ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। ফর্ম সংক্রান্ত বাকি তথ্য আজ দেবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যত তাড়াতাড়ি এনরোলমেন্ট করা হবে, তত তাড়াতাড়ি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে মঙ্গলবার থেকেই।
এদিন অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, জলদি জলদি ভাগো। প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বাড়ছে। বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা! সেই বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জলদি জলদি ভাগো। হাকিমপুরের ব্যাপারটা আমি শুনেছি। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও। তিনি আরও বলেন, আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব আমরা?
এদিনের বৈঠক থেকে আমজনতার পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ‘মা ক্যান্টিন’ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন ৫ টাকায় ডাল-ভাত-সবজির পাশাপাশি ডিম মিলত, এবার রাজ্যের নতুন সরকারের উদ্যোগে এই ক্যান্টিনগুলির ভোলবদল হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মা ক্যান্টিনের মেনুতে মিলবে মাছ-ভাত। তবে মেনুর মান বাড়লেও দামের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। মাত্র ৫ টাকাতেই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ এই খাবার পাবেন।
Advertisement



