মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের লড়াইয়ের অবসান হতে পারে—এই আশায় আজ সোমবার থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ২৫ মে সকালে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা MCX -এ দেখা গিয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ কমে গিয়েছে ক্রুড অয়েলের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমে যাওয়া ভারতের অর্থনীতির জন্য একটা ইতিবাচক সংকেত।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজারেও। জাপানের বেঞ্চমার্ক শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ সোমবার সকালের লেনদেনে ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। শুক্রবার রেকর্ড উচ্চতায় বন্ধ হওয়ার পর সোমবার ফের নতুন সর্বকালীন উচ্চতা স্পর্শ করে সূচকটি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পতন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনাতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলক পথে এগোচ্ছে। তবে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছতে বারণ করেছেন। ট্রাম্প লেখেন, দুই পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। কোনও ভুলের জায়গা নেই।
Advertisement
এর আগের দিনই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা নিয়ে একটি চুক্তি প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সেই চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ এই হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক বাজারে মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই হয়ে থাকে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। এর পাশাপাশি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ইরানের বন্দরগুলির উপর আমেরিকাও অবরোধ চাপায়। ফলে ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হয়।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংস্থা স্পার্টার জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ১.১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ আটকে থাকবে। তবে বাজারের আশা, চুক্তি কার্যকর হলেই আটকে থাকা প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল দ্রুত বাজারে পৌঁছবে।
তবে গোহ সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। কারণ উৎপাদন, শোধনাগার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। ফলে আপাতত যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না আন্তর্জাতিক বাজারে।
Advertisement



