সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই হামজার শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে। একাধিক সশস্ত্র জঙ্গিকে সেখানে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। একটি ভিডিওয় আল বদরের প্রধান বখত জামিন খানকে একে-৪৭ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে আসা সেই ছবি বা ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সম্প্রতি পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একের পর এক জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা মাথায় রেখেই এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক বছরে ‘হিটলিস্টে’ থাকা বহু জঙ্গির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ২০১৯-এর ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সংঘটিত ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মুহাম্মদ। হামলার পর ভারত সরাসরি পাকিস্তানের দিকে আঙুল তোলে এবং অভিযোগ করে, পাকিস্তানের মদত ছাড়া এই ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপ সম্ভব নয়। যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
Advertisement
গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ও দিল্লির দাবি ছিল, পাকিস্তান সরকার পরোক্ষভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। হামজা বুরহানের শেষকৃত্যে কুখ্যাত জঙ্গিনেতাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জম্মু-কাশ্মীরের রত্নিপোরা এলাকার বাসিন্দা হামজা প্রায় সাত বছর আগে পাকিস্তানে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। পরে তাকে আল বদরের অপারেশনাল কম্যান্ডার করা হয়। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে সে বহুদিন ধরেই ছিল। ২১ মে অর্থাত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। দিনের আলোয়, ব্যস্ত বাজার এলাকায় হামজা বুরহানের ওপর গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানা গিয়েছে ।
Advertisement



