• facebook
  • twitter
Friday, 22 May, 2026

২০৩০ পর্যন্ত এলডিসি তালিকা থেকে বেরোতে নারাজ নেপাল

অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার সময়সীমা ২০৩০ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে নেপাল।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা এবং দেশের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে বিশেষ আবেদন জানাল নেপাল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার কথা থাকলেও, সেই প্রক্রিয়া ২০৩০ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে কাঠমান্ডু।

নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল গত ১৩ মে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Advertisement

নেপাল সরকারের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও চাপে রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের পাঠানো অর্থের উপর এর প্রভাব পড়ছে। একইসঙ্গে খাদ্য, সার এবং জ্বালানির দামও বেড়েছে। এর জেরে পর্যটন শিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি কাঠমান্ডুর।

Advertisement

সরকার আরও জানিয়েছে, এলডিসি মর্যাদা হারালে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত আন্তর্জাতিক বাজার সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। এতে নেপালের উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণ শিল্প বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। সরকারি আশঙ্কা, এর ফলে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে।

কোভিড অতিমারির ধাক্কা কাটিয়ে নেপালের অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বলেও দাবি করা হয়েছে। তার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশকে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি সূচকের মধ্যে অন্তত দু’টি মানদণ্ড টানা দু’বার পূরণ করতে হয়। নেপাল ইতিমধ্যেই তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে। দেশটির মাথাপিছু আয় বর্তমানে ১ হাজার ৫৩৫ মার্কিন ডলার বলে জানানো হয়েছে।

তবে নেপালের শিল্পমহল এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি, এখনও দেশের অর্থনৈতিক ভিত যথেষ্ট মজবুত নয়। সেই কারণেই এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এর আগে বাংলাদেশও একই ধরনের আবেদন জানিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে।

২০২৬ সালে নেপাল, বাংলাদেশ এবং লাওসের এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার কথা রয়েছে। তার আগে নেপালের এই আবেদন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

Advertisement