• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 6 July, 2026

উত্তরবঙ্গের চার পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ রাজ্য সরকারের

উত্তরবঙ্গের চারটি পুর প্রশাসনের বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্যের পুর দপ্তর। নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন মহকুমাশাসকরা।

উত্তরবঙ্গের চার পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ রাজ্য সরকারের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উত্তরবঙ্গের চারটি পুর প্রশাসন ভেঙে সেখানে আমলাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের পুর দপ্তর। মঙ্গলবার এই ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ছাড়াই প্রশাসনিক বোর্ডের মাধ্যমে পুরসভাগুলি পরিচালনার অভিযোগ উঠছিল। সেই পরিস্থিতিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

রাজ্যের পুর দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল আর এন রবির দপ্তরের পরামর্শ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন করে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মহকুমাশাসকদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যে চারটি পুর প্রশাসনের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং পুরসভা, মিরিক নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি এবং কালিম্পং পুরসভা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর পুরসভাও রয়েছে এই তালিকায়।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, গঙ্গারামপুরের মহকুমাশাসককে বুনিয়াদপুর পুরসভার প্রশাসক করা হয়েছে। একইভাবে কার্শিয়াং, মিরিক এবং কালিম্পংয়ের মহকুমাশাসকদের সংশ্লিষ্ট পুর প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্শিয়াং পুরসভা, মিরিক নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি এবং কালিম্পং পুরসভার শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালের মে মাসে। তখন তৃণমূল কংগ্রেস এবং পাহাড়ের স্থানীয় মিত্রদের সমর্থনে বোর্ড গঠন হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে সেই বোর্ডগুলির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন হয়নি। তার পরিবর্তে আগের চেয়ারম্যানদেরই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রাখা হয়েছিল।

বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, চেয়ারম্যানদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে কার্যত পুর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ শাসক দলের হাতেই রাখা হয়েছিল। একই অভিযোগ উঠেছিল বুনিয়াদপুর পুরসভা নিয়েও। সেখানে ২০১৭ সালে নির্বাচন হলেও ২০২২ সালে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর ভোট হয়নি। সেখানেও পুরনো চেয়ারম্যানকেই প্রশাসক করা হয়েছিল।

বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই ধরনের পুর প্রশাসনগুলিকে বেআইনিভাবে পরিচালনার অভিযোগ তুলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরকার জানিয়েছে, নতুন নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব আমলাদের হাতেই থাকবে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই পুর প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।