• facebook
  • twitter
Tuesday, 19 May, 2026

আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়, গোটা ঘটনাস্থল সিল করার নির্দেশ হাইকোর্টের

বেঞ্চের নির্দেশ, সন্দীপ ঘোষের চেম্বার-সহ অভয়া কাণ্ডের সঙ্গে হাসপাতালের যেসব জায়গার যোগ সূত্র রয়েছে, সেই সব জায়গা সিল করে দিতে হবে

আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় নতুন নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ শুধু সেমিনার হল নয়, অবিলম্বে গোটা ঘটনাস্থল সিল করতে হবে। বেঞ্চের নির্দেশ, সন্দীপ ঘোষের চেম্বার-সহ অভয়া কাণ্ডের সঙ্গে হাসপাতালের যেসব জায়গার যোগ সূত্র রয়েছে, সেই সব জায়গা সিল করে দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার।

সদ্য হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতোই নতুন করে খুলেছে আরজি কর মামলার ফাইল। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। এদিন দুই বিচারপতি সিবিআইয়ের কাছে জানতে চান,  তদন্তভার নেওয়ার সময় আরজি করের কোন কোন জায়গা সিল করা হয়েছিল ? ওই প্রশ্নের জবাবে সিবিআই জানায়, সেমিনার হল সিল করা হয়েছিল।

Advertisement

ওই উত্তরের প্রেক্ষিতে বিচারপতিরা ফের প্রশ্ন করেন, আর কোনও জায়গা সিল করার প্রয়োজন মনে হয়নি? উত্তরে সিবিআই জানায় ‘না’। তবে দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতিতা চিকিৎসকের পরিবারের দাবি ছিল, সেমিনার হলের পাশের একটি ঘর রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে ওই ঘরের যোগ থাকতে পারে। এমনকী, সাত তলার সন্দীপ ঘোষের চেম্বারের সঙ্গেও ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে।  কিন্তু সেই ঘর এখনও খোলা আছে। আদালত এদিন সেই সব জায়গা সিল করার নির্দেশ দিল।

Advertisement

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের  পদক্ষেপ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আরজি করের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কলকাতা পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেন। একই সঙ্গে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘সাসপেন্ড হওয়া ওই তিন পুলিশ কর্তা ওই সময় কাদের নির্দেশে কাজ করেছেন সেটা মুখ্যমন্ত্রী নাকি অন্য কোনও মন্ত্রীর নির্দেশে, সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হবে।

ওই আইপিএসদের ফোনকল, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সব বের করে খতিয়ে দেখা হবে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীর কথায় তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিতে চাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪-এর ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ওই ঘটনায় একমাত্র দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনায় আদালতের ভূমিকায় খুশি নয় নির্যাতিতার পরিবার। সে কারণে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। সেই মামলাতেই এদিন আরজি করের গোটা ঘটনাস্থল সিল করার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Advertisement