ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন বৃহস্পতিবার। তার আগেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রার্থী তথা এলাকার ডাকাবুকো নেতা জাহাঙ্গির খান মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর মুখে। জাহাঙ্গিরের দাবি, ফলতার মানুষের উন্নয়ন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, কয়েকদিন আগেই ফলতার সভা থেকে জাহাঙ্গির খানের রাজনৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, ‘ওর দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন।’ সেই মন্তব্যের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে তৃণমূল সংগঠনের ভিত দুর্বল হওয়ারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এই ঘটনায়।
জাহাঙ্গির খান দীর্ঘদিন ধরেই ফলতার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগেও তাঁকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠায় এলাকায়। সেই সময় প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেও জাহাঙ্গিরের মন্তব্য ছিল, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি সুরক্ষাও নেন।
জাহাঙ্গিরের সরে দাঁড়ানো নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘বড় বড় কথা বলে শেষে ভয়ে পালিয়ে গেল।’ তৃণমূলের অন্দর থেকেও এই ঘটনায় অস্বস্তির সুর শোনা গিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি বলেছিল, তাহলে পুষ্পা ঝুঁকল কেন? দলের জন্য এটা ভালো বিজ্ঞাপন নয়।’
এর মধ্যেই জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্ত থেকে কার্যত দূরত্ব রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অফিসিয়াল বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ জাহাঙ্গির খানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়। একইসঙ্গে দলের অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই ফলতা এলাকায় শতাধিক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগও তুলেছে তারা। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছে তৃণমূল।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বার জন্য একমাত্র কংগ্রেসই রয়েছে। ফলতার কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল রেজ্জাক মোল্লাকে সমর্থন করুন।’ পাশাপাশি এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে কংগ্রেসকে সমর্থনের বার্তাও দেন তিনি। কংগ্রেস নেতার স্পষ্ট বার্তা, ‘তৃণমূল সমর্থকদের বলব যাঁরা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন। আপনাদের নেতৃত্বরা বারবার আপনাদের অন্যায়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে কংগ্রেসের প্রতিনিধিকে বিধানসভায় পাঠান। বিজেপি বিরোধী শক্তি হয়ে তৃণমূলের যত সমর্থক আছেন সকলে কংগ্রেসকে সমর্থন করুন।’




