ডেঙ্গি এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বছরের যে কোনও সময়েই এই মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। শুধু তাই নয়, ডেঙ্গির উপসর্গেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে যেখানে মূলত জ্বর, গায়ে ব্যথা বা রক্তক্ষরণকে ডেঙ্গির লক্ষণ বলে ধরা হত, এখন তার আগেই দেখা দিচ্ছে একাধিক অচেনা সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই জ্বর আসার আগেই শুরু হচ্ছে তীব্র পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, অম্বল, খিদে কমে যাওয়া, বমি বা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা। অনেকেই এগুলিকে সাধারণ গ্যাস বা পেটের গোলমাল ভেবে অবহেলা করছেন। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হচ্ছে এবং ঝুঁকিও বাড়ছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রকৃতি বদলাচ্ছে এবং তা আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে। এখন ভাইরাস শুধু জ্বর বা র্যাশ সীমাবদ্ধ থাকছে না, শরীরের লিভার, হার্ট, পিত্তথলি এবং পরিপাকতন্ত্রেও প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির নতুন উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে—তীব্র পেটব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া, পেটের উপরের অংশে ব্যথা, যা পিঠ পর্যন্ত ছড়াতে পারে, বারবার বমি, ডায়েরিয়া ও অ্যাসিডিটির সমস্যা, প্রস্রাব কমে যাওয়া ও জলশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট ও বুকে অস্বস্তি।
গবেষকদের বক্তব্য, ডেঙ্গিতে শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্ত ও প্লাজমা বিভিন্ন কোষে জমে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। এর ফলে পেট ও ফুসফুসে জল জমার আশঙ্কাও থাকে। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রথমেই ‘এনএস১ অ্যান্টিজেন’ পরীক্ষা করা উচিত। পাশাপাশি ‘আইজিএম’ ও ‘আইজিজি’ অ্যান্টিবডি টেস্ট করলে ডেঙ্গি সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে ধরা সম্ভব। দ্রুত রোগ চিহ্নিত হলে চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা যাবে।




