পার্ক সার্কাসে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি জানান, আন্দোলন বা বিক্ষোভ কর্মসূচির নামে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, তাঁর প্রশাসনের সময়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে এই ধরনের আক্রমণ প্রথমবার ঘটল এবং এটিই শেষ হওয়া উচিত।
রবিবার পার্ক সার্কাস চত্বরে বুলডোজার চালানোর প্রতিবাদে কয়েকশো মানুষের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে রাস্তা খালি করতে গেলে অশান্তি শুরু হয়। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশই প্রথম লাঠিচার্জ করে। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে—ইটপাটকেল ছোঁড়া হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
Advertisement
এই ঘটনার পর সোমবার মুখ্যমন্ত্রী পার্ক সার্কাস এলাকায় ডিসি অফিসে যান এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আহত পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী যে ভূমিকা নিয়েছে, তা প্রশংসনীয় এবং বড় ধরনের অঘটন এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
Advertisement
এরপর তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠন যদি আইন মেনে প্রশাসনকে জানিয়ে কর্মসূচি করে, তাতে বাধা নেই। তবে ভিড় জড়ো করে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া বা পুলিশের উপর পাথর ছোড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, এ ধরনের কার্যকলাপকে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে দেখা হবে এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশকে এখন আগের তুলনায় বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং কোনও পরিস্থিতিতেই ভয় পেয়ে পিছু হটলে চলবে না। তাঁর মতে, অভিযোগ থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী ওসি, আইসি, ডিসি বা লালবাজার পর্যন্ত জানানো যেতে পারে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না।
তিনি শেষবারের মতো সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে আগামী ছ’মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যও তিনি তুলে ধরেন।
Advertisement



