শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আদালতের বাস্তব ব্যবস্থা এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ। হাজরা ক্যাম্পাসের দশম সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শুরু হয়েছে কোর্ট ভিজিট এবং ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি। এই শিক্ষামূলক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডক্টর বরুণ কুমার দাশ।
সোমবার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সিটি সিভিল কোর্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাইবুনাল পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে আদালতের কার্যপ্রণালী, বিচারকদের ভূমিকা, আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব এবং সাক্ষীদের জেরা কীভাবে হয়, তা সরাসরি দেখানো হয় পড়ুয়াদের। ডক্টর দাশ জানান, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এই বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি গত ১২ মে থেকে শুরু হয়েছে এবং প্রায় এক মাস ধরে চলবে।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল ছাত্রছাত্রীদের বাস্তব বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দেওয়া। ইতিমধ্যেই পড়ুয়ারা ল্যান্ড ট্রাইবুনাল, সল্টলেক, সিটি সিভিল কোর্ট, স্মল কজেস কোর্ট, ফ্যামিলি কোর্ট, সিটি সেশনস কোর্ট এবং ব্যাঙ্কশাল কোর্ট পরিদর্শন করেছেন। আদালতের প্রতিটি ধাপ কীভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
শুধু আদালত পরিদর্শন নয়, শিল্প ট্রাইবুনাল কোর্ট এবং নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংও ঘুরে দেখানো হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। পাশাপাশি আইনজীবীদের চেম্বার এবং আইন সংস্থার কাজকর্ম সম্পর্কেও তাঁদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আলিপুর জজ কোর্ট, কনজিউমার কোর্ট এবং কলিকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন আদালতেও পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডক্টর বরুণ কুমার দাশ।
তাঁর বক্তব্য, আইনের শিক্ষাকে শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বাস্তব বিচারব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হলে ভবিষ্যতের আইনজীবী এবং বিচারক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হবে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাঁদের পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তাঁর মত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজরা ক্যাম্পাস থেকে অতীতে বহু বিশিষ্ট বিচারপতি, অধ্যাপক এবং আইনজীবী উঠে এসেছেন। বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও এই ক্যাম্পাসের দুই প্রাক্তনী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে হাজরা ক্যাম্পাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং গৌরব আজও সমানভাবে বজায় রয়েছে।
Advertisement



