• facebook
  • twitter
Monday, 18 May, 2026

কার্টুন মামলার স্মৃতি টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ অম্বিকেশের

২০১২ সালের কার্টুন মামলার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র।

২০১২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্টুন ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র ফের সরব হলেন তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রবিবার তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন শাসক দল, পুলিশ প্রশাসন এবং নিম্ন আদালত মিলেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করেছিল। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনাই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে।

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে একটি আবাসনের ই-মেল গোষ্ঠীতে একটি কার্টুন পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল অম্বিকেশ মহাপাত্রকে। সেই কার্টুনটি সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ‘সোনার কেল্লা’-র আদলে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে তৎকালীন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর বদলে মুকুল রায়কে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছিল।

Advertisement

সেই সময় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তৎকালীন তৃণমূল সরকার। পরে দেশের শীর্ষ আদালত ওই ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। তবু দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মামলার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। অবশেষে ২০২৩ সালে আলিপুর জেলা আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে অম্বিকেশ মহাপাত্র বলেন, ‘শাসক দলের দাদাগিরি, পুলিশ প্রশাসন এবং নিম্ন আদালত একসঙ্গে কাজ করছিল। তৃণমূল, পুলিশ ও প্রশাসন মিলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল। সব কিছুই হচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে।’

তিনি আরও বলেন, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারা অসাংবিধানিক এবং সেই ধারায় চলা সমস্ত মামলা বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু তাঁর মামলা বন্ধ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত হানতেই এই মামলা দীর্ঘদিন চালানো হয়েছিল।

অম্বিকেশের দাবি, গত ১৫ বছরে এ ধরনের ঘটনা বহুবার ঘটেছে। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষক শিলাদিত্য চৌধুরী এবং প্রেসিডেন্সি কলেজের পড়ুয়া তানিয়া ভরদ্বাজের উদাহরণ টেনে বলেন, সমালোচনা বা বিরোধিতার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যাদবপুরের এই অধ্যাপক। তাঁর বক্তব্য, ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের শীর্ষ পদে রয়েছেন। দলে কোনও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অম্বিকেশের কথায়, ‘এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক দল ও প্রশাসন চালানো হয়েছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং সব সিদ্ধান্ত এক ব্যক্তির হাতে থাকা গণতন্ত্রের পক্ষে উপযুক্ত নয়।’

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার বদলের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তবে অম্বিকেশ মহাপাত্রের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement