• facebook
  • twitter
Sunday, 17 May, 2026

নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে অবসাদ, আত্মঘাতী অন্তত চার পরীক্ষার্থী!

কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঘিরে বিতর্ক ক্রমশই রাজনৈতিক এবং সামাজিক সঙ্কটে পরিণত হচ্ছে। দেশজুড়ে একের পর এক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের দাবি, নিট প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের জেরে অবসাদে অন্তত চার জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। কংগ্রেস এই ঘটনাগুলিকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা বলতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, এগুলি আসলে ‘সিস্টেমেটিক মার্ডার’ বা প্রাতিষ্ঠানিক খুন।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা সামনে এসেছে গোয়া থেকে। সেখানে ১৭ বছরের সিদ্ধার্থ হেগড়ে নামে এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিট পরীক্ষা বাতিল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছে সে। সিদ্ধার্থের দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘গত দু’বছর কঠোর পরিশ্রমের পর আমি পরীক্ষা দিয়েছি। আর পরীক্ষা দেওয়ার মতো শক্তি আমার নেই।’

Advertisement

সিদ্ধার্থ একা নয়। এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ২০ বছরের অংশিকা পাণ্ডে, ২১ বছরের ঋত্বিক মিশ্র এবং ২২ বছরের প্রদীপ মেঘওয়ালের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এনেছে কংগ্রেস। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশা এবং অনিশ্চয়তার কারণেই তাঁরা চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

Advertisement

এই ঘটনাগুলিকে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চাইছে কংগ্রেস। দলের সমাজমাধ্যমের পাতায় দাবি করা হয়েছে, ‘এগুলি শুধুই আত্মহত্যা নয়। এগুলি সিস্টেমেটিক মার্ডার।’ অর্থাৎ, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলেই এই মৃত্যুগুলি ঘটছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে কংগ্রেস। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা বারবার ঘটলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে রাহুল লেখেন, ‘২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁস হয়েছিল, পরীক্ষা বাতিল হয়নি। মন্ত্রীও পদত্যাগ করেননি। কমিটি গঠন হয়েছিল। এ বার ফের প্রশ্নফাঁস হল। আবার তদন্ত, আবার কমিটি। কিন্তু দেশ জানতে চাইছে, বারবার কেন প্রশ্নফাঁস হচ্ছে? কেন প্রধানমন্ত্রী সবসময় এই বিষয়ে নীরব থাকেন? শিক্ষামন্ত্রী কেন এখনও পদে রয়েছেন?’

কংগ্রেসের দাবি, শুধু তদন্ত নয়, এই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়েও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। বিরোধীদের অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা চলছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, আর্থিক চাপ এবং মানসিক উদ্বেগের মধ্যে থাকা পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ইতিমধ্যেই নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। তদন্তভার গিয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। বিভিন্ন রাজ্যে গ্রেপ্তারও শুরু হয়েছে। তবে রাজনৈতিক চাপ এবং জনরোষ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

Advertisement