• facebook
  • twitter
Thursday, 14 May, 2026

গড়িয়ায় অরূপ বিশ্বাসের বিতর্কিত ঘড়িঘর গুঁড়িয়ে দিল পুরসভা

গড়িয়ার কামডহরিতে অরূপ বিশ্বাস উদ্বোধন করা বিতর্কিত ঘড়িঘর ভেঙে দিল কলকাতা পুরসভা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, নিয়ম ভাঙলে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। সেই বার্তারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল গড়িয়ার কামডহরিতে। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ঘড়িঘর ভেঙে ফেলল কলকাতা পুরসভা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কামডহরি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় পৌঁছন। সঙ্গে ছিল একাধিক হাইড্রা ক্রেন। এরপরই ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিতর্কিত ঘড়িঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে মিশে যায় বহু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা ওই নির্মাণ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাবের মাঠ সংলগ্ন জমিতে বেআইনিভাবে ওই ঘড়িঘর তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের ২৪ মে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস এই ঘড়িঘরের উদ্বোধন করেছিলেন। তারপর থেকেই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ তীব্র হতে থাকে।

Advertisement

অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং দাবি করে যে জমিটি তাদের। প্রায় এক বছর আগে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। শেষ পর্যন্ত মামলায় জয়ী হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

এরপর আদালত ঘড়িঘর ভাঙার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বাধার কারণে পুরকর্মী ও পুলিশকে একসময় পিছিয়ে আসতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। ফলে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন অক্ষতই ছিল ওই নির্মাণ।

তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নির্দেশে আদালতের রায় কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো বৃহস্পতিবার পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ভাঙার কাজ শুরু হয়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ওই নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছিলেন। অবশেষে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ভাঙার ঘটনা শুধুমাত্র একটি ঘড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া নয়। বরং শহরে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা।

Advertisement