• facebook
  • twitter
Wednesday, 13 May, 2026

বিধায়ক পদে শপথ নিয়েই ভবানীপুরে ছুটলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

নন্দীগ্রাম কেন্দ্রও শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন।

নিজস্ব চিত্র

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্র। এই দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই কেন্দ্রেই জয় পাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত কোন কেন্দ্রকে তিনি বেছে নেবেন। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসাবেই শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রাম আসন তিনি ছেড়ে দেবেন।

এদিন বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনতা জনার্দনের আশীর্বাদ নিয়ে যে সরকার এসেছে, সেই সরকার মানুষের জন্য কাজ করবে। বিধানসভাই গণতন্ত্রের মূল মঞ্চ। এখানেই আইন তৈরি হবে, বাজেট পেশ হবে এবং সরকার বিধানসভার প্রতিই দায়বদ্ধ থাকবে। কোনও গোপনীয়তা থাকবে না।’

Advertisement

বুধবার বিধায়ক পদে শপথগ্রহণের পর ভবানীপুরে একটি ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন মিছিল’-এ অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই কর্মসূচিকে ‘বিজয় মিছিল’ বলা হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘এটি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মিছিল। আমাদের কর্মী-সমর্থকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও বিরোধী দলের উদ্দেশে আবির ছোড়া যাবে না, ফুল নিক্ষেপ করা যাবে না এবং কোনও রকম কটূক্তিও করা যাবে না।’

Advertisement

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র বিশেষভাবে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছিল। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পান শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জয় শুধুমাত্র নির্বাচনী ফল নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রও শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। ফলে নন্দীগ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বিজেপির একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক কাজ এবং কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই ভবানীপুরকে বেছে নিয়েছেন শুভেন্দু।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নাম না করে তিনি বলেন, ‘ওঁরা আমাকে বলেছেন, এখন তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ পাচ্ছেন।’ যদিও এই দাবি নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিধানসভার আগামী কর্মসূচি নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, শুক্রবার স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভাকে আরও সক্রিয় এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একের পর এক কড়া বার্তা দিচ্ছেন। এবার ভবানীপুরকে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement