ভোটপ্রচারে বারবার উঠে এসেছিল আলু চাষিদের দুর্দশার কথা। ভিন রাজ্যে আলু পাঠাতে বাধা, কম দামে ফসল বিক্রি এবং প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগে দীর্ঘদিন ক্ষোভ ছিল কৃষকদের একাংশের মধ্যে। ক্ষমতায় আসার পর সেই ইস্যুতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, এবার থেকে ভিন রাজ্যে আলু বা অন্য কোনও কৃষিপণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা থাকবে না।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগের সরকারের জারি করা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে আলু চাষি এবং আলু ব্যবসায়ীদের উপর অযথা চাপ তৈরি করা হয়েছিল। প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কৃষিপণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা বাধা তৈরি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করা হলো। কৃষকরা স্বাধীনভাবে তাঁদের পণ্য দেশের যে কোনও প্রান্তে পাঠাতে পারবেন।’
Advertisement
কৃষি বিপণন দপ্তরের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি, ফলমূল, খাদ্যশস্য, তেলবীজ এবং প্রাণিজ পণ্য অবাধে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া যাবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের অন্য কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহণে পুলিশ বা প্রশাসনের কোনও দপ্তর আর বাধা দিতে পারবে না।
চাষিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কৃষক, কৃষি ব্যবসায়ী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা চলবে না। কৃষিপণ্য নিয়ে যাওয়া ট্রাক আটকানো বা অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কর্মরত পুলিশ এবং পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষিপণ্য বহনকারী গাড়িগুলিকে অযথা আটকে রাখা না হয়।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে আলু চাষিদের সমস্যা অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ভিন রাজ্যে আলু পাঠাতে বাধা দিয়ে চাষিদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। যদিও তৎকালীন সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করে কোল্ড স্টোরেজ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তবে সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তকে কৃষকদের প্রতি বড় বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অনেক চাষিরই দাবি, এখন থেকে ভিন রাজ্যের বাজারে সরাসরি পণ্য পাঠানো সম্ভব হলে ফসলের ভালো দাম পাওয়া যাবে। বিশেষ করে আলুর চাহিদা বেশি থাকা রাজ্যগুলিতে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হওয়ায় ফড়েদের দৌরাত্ম্য কমবে বলেও আশা কৃষকদের।
Advertisement



