• facebook
  • twitter
Tuesday, 12 May, 2026

বিশ্বে শান্তি ফেরাতে ‘পরা বিদ্যাপীঠ’ গড়ার উদ্যোগ গৌড়ীয় মিশনের

মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে বিশ্বজুড়ে ‘পরা বিদ্যাপীঠ’ স্কুল গড়ার উদ্যোগ নিল গৌড়ীয় মিশন। লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানী-সহ বিভিন্ন দেশে শুরু হবে এই প্রকল্প।

নিজস্ব চিত্র

যুদ্ধ, হিংসা এবং অশান্তির আবহে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিল গৌড়ীয় মিশন। শ্রীচৈতন্যদেবের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘পরা বিদ্যাপীঠ’ স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করল সংস্থা। ইতিমধ্যেই কলকাতার বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন, নবদ্বীপ এবং দেশের বিভিন্ন গৌড়ীয় মঠে এই শিক্ষাপ্রকল্প চালু হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গৌড়ীয় মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানী, অস্ট্রীয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা কেন্দ্রগুলিতে ‘পরা বিদ্যাপীঠ’ স্কুল চালু করা হবে। এই শিক্ষাপদ্ধতিতে শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয় না, পাশাপাশি আধ্যাত্মিক চেতনা, নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ চরিত্র গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Advertisement

এই উদ্যোগের লক্ষ্যেই আগামী ১৪ মে কলকাতা থেকে চারটি দেশে সফরে যাচ্ছেন গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য এবং সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী গোস্বামী মহারাজ। বাগবাজার গৌড়ীয় মিশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানুষ ক্রমশ হিংসা, অসহিষ্ণুতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষা এবং মানবিক আদর্শ।

Advertisement

ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী গোস্বামী মহারাজ বলেন, ‘শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক শিক্ষা নয়, মানুষের ভিতরে নীতি, আদর্শ এবং সহমর্মিতার বোধ জাগিয়ে তোলাই এই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বজুড়ে যে বিভাজন এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাই শান্তির পথ দেখাতে পারে।’

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ভাষায় এই শিক্ষাপদ্ধতি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষও সহজে এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন এবং শ্রীচৈতন্যদেবের সার্বজনীন ভাবধারা আরও বিস্তৃত হয়।

গৌড়ীয় মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষাকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৩৫ সালে ‘পরা বিদ্যাপীঠ’ প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন গৌড়ীয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ। পরে ১৯৬৬ সালে ভারত সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘গৌড়ীয় মিশন পরাবিদ্যাপীঠ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’। এই প্রতিষ্ঠানে সংস্কৃত ভাষা, দর্শন এবং ভারতীয় ভাবধারার উপর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি গৌড়ীয় নৃত্য, মৃদঙ্গবাদন এবং কীর্তনের মতো ঐতিহ্যবাহী পাঠক্রমও চালু রয়েছে।

ধর্মীয় শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিকল্প শিক্ষার মডেল তুলে ধরতেই এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বলে মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ।

Advertisement